Writer : Debraj Das
- Shipping Time : 10 Days
- Policy : Return/Cancellation?
You can return physically damaged products or wrong items delivered within 24 hours with photo/video proof.
Contact Customer Support for return initiation and receive return authorization via email. Securely package for return.
Refunds for eligible returns are processed within 7-10 business days via Bank Transfer.
Order cancellation allowed within 24 hours of placing it. Standard policy not applicable for undamaged/wrong product cases. Detailed info. - Genre : Spirituality>Hinduism
- Publication Year : 2022
- ISBN No : 978-81-68641-75-4
- Binding : Paste Board (Hard)
- Pages : 256
- Weight : 495 gms
- Height x Width x Depth : 8.5x5.5x01 Inch
If so, it will be notified
About the Book
ভারতীয় আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের বিস্তীর্ণ পরিসরে এমন কিছু তত্ত্ব ও উপাসনা পদ্ধতি রয়েছে, যা একদিকে যেমন গভীর রহস্যময়, অন্যদিকে তেমনি সর্বজনগ্রাহ্য ও সহজাত। "শ্রী জগন্নাথ" এবং "দশ মহাবিদ্যা”-এই দুই ধারাই সেই বিস্ময়কর ঐতিহ্যের উজ্জ্বল উদাহরণ। প্রথমটি বৈষ্ণব ভক্তির সর্বজনীন প্রতীক, আর দ্বিতীয়টি শাক্ত তন্ত্রের গভীরতম শক্তিতত্ত্বের বহিঃপ্রকাশ। আপাতদৃষ্টিতে এই দুই ধারা ভিন্ন হলেও, অন্তর্গত স্তরে তারা এক অভিন্ন চেতনার দুই প্রকাশমাত্র।
শ্রী জগন্নাথ দেব, যিনি "জগতের নাথ" বা সমগ্র সৃষ্টির অধিপতি হিসেবে পূজিত, তাঁর রূপ ও তত্ত্ব ভারতীয় ধর্মদর্শনে এক অনন্য স্থান অধিকার করে। পুরীর মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত তাঁর কাঠের মূর্তি, বড় বড় চক্ষু, এবং অঙ্গহীন অবয়ব-এই সবই একটি গভীর প্রতীকতত্ত্ব বহন করে। তিনি নিরাকার ও সাকার, মানব ও অতিমানব, বৈষ্ণব ও সর্বধর্মসমন্বয়ের এক আশ্চর্য প্রতিমূর্তি। তাঁর মধ্যে যেমন কৃষ্ণতত্ত্বের প্রকাশ, তেমনি আছে শিব, শক্তি এবং ব্রহ্মের সমন্বয়।
অন্যদিকে, দশ মহাবিদ্যা হলেন আদ্যাশক্তির দশটি ভিন্ন ভিন্ন রূপ-যারা সৃষ্টির, স্থিতির এবং সংহারের বিভিন্ন দিককে প্রতিফলিত করেন। কালী থেকে কমলা পর্যন্ত এই দশ রূপে দেবী শক্তির সম্পূর্ণ পরিসর প্রকাশ পায়-ভয়ঙ্কর থেকে সৌম্য, সংহার থেকে সৃষ্টি, ত্যাগ থেকে ভোগ-সবই এর অন্তর্ভুক্ত। তন্ত্রশাস্ত্রে এই দশ মহাবিদ্যা কেবল দেবী নন, তাঁরা হলেন চেতনার দশটি স্তর, সাধনার দশটি পথ এবং আত্মউন্নয়নের দশটি ধাপ।
এই গ্রন্থে মূলত একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান করা হয়েছে-শ্রী জগন্নাথ তত্ত্বের সঙ্গে দশ মহাবিদ্যার সম্পর্ক কী?
শ্রী জগন্নাথ ও দশ মহাবিদ্যা: তন্ত্র ও ভক্তির ঐক্যতত্ত্ব - এই বইতে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমরা দেখতে পাই, পুরীর জগন্নাথ মন্দির নিজেই এক গুপ্ত তান্ত্রিক ক্ষেত্র। এখানে বিমলা দেবীর উপস্থিতি, মহাপ্রসাদের শক্তিতত্ত্ব, এবং বিভিন্ন গোপন আচার-সবই শাক্ত তন্ত্রের গভীর প্রভাবের সাক্ষ্য বহন করে। অর্থাৎ, জগন্নাথ কেবল বৈষ্ণব উপাসনার কেন্দ্র নন, তিনি শক্তি উপাসনারও এক গুপ্ত আধার।
এই বইয়ে আমরা দেখানোর চেষ্টা করেছি যে, দশ মহাবিদ্যার প্রতিটি রূপই কোনও না কোনওভাবে শ্রী জগন্নাথ তত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত। যেমন-কালী সময়ের প্রতীক, আর জগন্নাথ হলেন মহাকাল; তারা মুক্তির পথপ্রদর্শক, যেমন জগন্নাথ "পতিতপাবন"; ত্রিপুরাসুন্দরী সৌন্দর্য ও লীলার প্রতীক, যা জগন্নাথের রথযাত্রায় প্রতিফলিত হয়। এইভাবে প্রতিটি মহাবিদ্যা এবং জগন্নাথের মধ্যে এক গভীর আধ্যাত্মিক সংযোগ বিদ্যমান।
এই গ্রন্থের উদ্দেশ্য কেবল ধর্মীয় কাহিনী বর্ণনা করা নয়, বরং একটি সমন্বিত দর্শন তুলে ধরা-যেখানে ভক্তি ও তন্ত্র, শাক্ত ও বৈষ্ণব, সাকার ও নিরাকার-সবকিছু এক পরম সত্যে মিলিত হয়েছে।
বর্তমান যুগে, যখন মানুষ বিভাজনের মধ্যে আটকে পড়েছে, তখন এই ঐক্যের তত্ত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রী জগন্নাথ এবং দশ মহাবিদ্যার এই মিলন আমাদের শেখায় - সত্য এক, পথ ভিন্ন। শক্তি ও চেতনাই পরম বাস্তবতা। অতএব, এই বই শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় বা তাত্ত্বিক আলোচনা নয়; এটি একটি আধ্যাত্মিক যাত্রা-যেখানে পাঠক ধীরে ধীরে উপলব্ধি করবেন নিজের মধ্যেই সেই জগন্নাথ এবং সেই মহাশক্তির উপস্থিতি।
