Writer : Various/Multiple Writers
- Shipping Time : 10 Days
- Policy : Return/Cancellation?
You can return physically damaged products or wrong items delivered within 24 hours with photo/video proof.
Contact Customer Support for return initiation and receive return authorization via email. Securely package for return.
Refunds for eligible returns are processed within 7-10 business days via Bank Transfer.
Order cancellation allowed within 24 hours of placing it. Standard policy not applicable for undamaged/wrong product cases. Detailed info. - Genre : Essays>Archaeological & Historical Facts
- Publication Year : 2025
- ISBN No : 978-81-7332-313-3
- Binding : Paste Board (Hard) with Gel Jacket
- Pages : 208
- Weight : NA
- Height x Width x Depth : 8.5x5.5x1 Inch
If so, it will be notified
About the Book
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক বিস্মৃতপ্রায় চরিত্র চপলাকান্ত ভট্টাচার্য। নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি প্রায় অচেনা, অথচ তাঁর জীবন ছিল বর্ণময়, সংগ্রামী এবং সমাজ-পরিবর্তনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
জন্ম ও শিক্ষাজীবন
চপলাকান্ত ভট্টাচার্যের জন্ম ১৯০১ সালের ১৬ জানুয়ারি, বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়। শিক্ষাজীবন শুরু হয় প্রেসিডেন্সি কলেজে, যেখানে তিনি ব্যবহারশাস্ত্র (ইথিক্স) নিয়ে পড়াশোনা করেন। কিন্তু তাঁর ছাত্রজীবন ছিল ঘটনাবহুল—দেশের স্বাধীনতার জন্য অসহযোগ আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ তাঁকে কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরাগভাজন করে তোলে। সেই সময় থেকেই তিনি দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করার ব্রত নেন।
সাংবাদিকতা ও 'আনন্দবাজার পত্রিকা'র সম্পাদকত্ব
চপলাকান্ত ভট্টাচার্য ছিলেন একাধারে সাংবাদিক, সম্পাদক এবং রাজনীতিবিদ। তিনি 'আনন্দবাজার পত্রিকা'র সহকারী সম্পাদক হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং পরে ১৯৪৬ সালে সম্পাদক পদে আসীন হন। এই দায়িত্ব পাওয়ার আগে, ৪০ বছর বয়সে, তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসেবে এম.এ. পাশ করেন।
প্রফুল্ল সরকারের প্রয়াণের পর, 'আনন্দবাজার পত্রিকা'র সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করে চপলাকান্ত ভট্টাচার্য সংবাদপত্রকে আরও শক্তিশালী ও প্রভাবশালী করে তুলতে সচেষ্ট হন। তাঁর সম্পাদনায় সংবাদপত্রটি দেশ-বিদেশের নানাবিধ সামাজিক ও রাজনৈতিক ঘটনার যথার্থ প্রতিফলন ঘটাতে থাকে।
রাজনৈতিক জীবন
শুধু সাংবাদিকতায় সীমাবদ্ধ থাকেননি চপলাকান্ত; সক্রিয় রাজনীতিতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫৭, ১৯৬২ এবং ১৯৬৭ সালে তিনি পশ্চিম দিনাজপুর (বর্তমান রায়গঞ্জ) লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন। ষাটের দশকে তিনি অল ইন্ডিয়া নিউজপেপার এডিটরস কনফারেন্স-এর সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। তাঁরই উদ্যোগে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগের প্রতিষ্ঠা হয়, যা পরবর্তী প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য এক মাইলফলক হয়ে দাঁড়ায়।
নোয়াখালি গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী
১৯৪৬ সালের ১০ অক্টোবর, নোয়াখালিতে হিন্দু গণহত্যার ঘটনা যখন শুরু হয়, তখন চপলাকান্ত ভট্টাচার্য নিজের জীবন বাজি রেখে সেই মৃত্যুপুরীতে ছুটে যান। সেখানে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের প্রত্যক্ষদর্শী হন তিনি। নোয়াখালির ঘটনাবলী নিয়ে তিনি কলকাতায় ফিরে ‘নোয়াখালির ধ্বংসকাণ্ড’ নামক বই প্রকাশের উদ্যোগ নেন। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন—
“যে প্রেরণা লইয়া নোয়াখালি-ত্রিপুরার ঘটনাসমূহের আলোচনায় প্রবৃত্ত হইয়াছিলাম, গ্রন্থপ্রকাশের প্রেরণা তাহা হইতে স্বতন্ত্র। অপ্রত্যাশিত ও কল্পনাতীত ভয়াবহ বর্বর ঘটনা মনকে রূঢ়ভাবে আঘাত করিয়া সদ্য সদ্য যে চেতনা ও চিন্তা জাগাইয়াছিল, আলোচনার মধ্যে প্রকাশ পাইয়াছিল তাহাই। কিন্তু গ্রন্থপ্রকাশের প্রেরণা ঐতিহাসিক। নোয়াখালি-ত্রিপুরার ঘটনা সাম্প্রদায়িক অগ্ন্যুৎপাতের আকারে দেখা দিয়াছিল বটে, কিন্তু এখন উহা ইতিহাসের পর্যায়ভুক্ত হইয়া গিয়াছে।”
প্রয়াণ ও উত্তরাধিকার
চপলাকান্ত ভট্টাচার্যের জীবনাবসান ঘটে ১৯৮৯ সালের ১৬ জানুয়ারি। তাঁর কাজ ও চিন্তাভাবনা আজও প্রাসঙ্গিক, তবে দুর্ভাগ্যবশত, তিনি ধীরে ধীরে বিস্মৃত হয়ে গিয়েছেন। তাঁর কর্মময় জীবন, সাহসী সাংবাদিকতা, এবং রাজনৈতিক ভূমিকা আজকের সমাজের জন্য এক শিক্ষার উপাদান হতে পারে।
এই বইটি চপলাকান্ত ভট্টাচার্যের জীবন ও কর্মের উপর একটি গভীর বিশ্লেষণ, যা পাঠকদের তাঁর সংগ্রামী জীবন, সাংবাদিকতার আদর্শ, এবং রাজনৈতিক অবদানের সঙ্গে পরিচিত করাবে।