Writer : Shyamal Bose
- Shipping Time : 10 Days
- Policy : Return/Cancellation?
You can return physically damaged products or wrong items delivered within 24 hours with photo/video proof.
Contact Customer Support for return initiation and receive return authorization via email. Securely package for return.
Refunds for eligible returns are processed within 7-10 business days via Bank Transfer.
Order cancellation allowed within 24 hours of placing it. Standard policy not applicable for undamaged/wrong product cases. Detailed info. - Genre : Essays>Personality Analysis
- Publication Year : 2022
- ISBN No : 81-7352-56-9
- Binding : Paste Board (Hard) with Gel Jacket
- Pages : 392
- Weight : 750 gms
- Height x Width x Depth : 07x05x02 Inch
If so, it will be notified
About the Book
শ্যামল বোসের "সুভাষ ঘরে ফেরে নাই" একটি অমর গ্রন্থ, যা গত ৪০ বছর ধরে লক্ষ লক্ষ বাঙালি পাঠকের মনে গভীর রেখাপাত করেছে। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অন্তর্ধান রহস্যের অন্যতম তথ্যসমৃদ্ধ ও বিশ্লেষণাত্মক গ্রন্থ এটি। রহস্য, ইতিহাস ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র—এই তিনের মেলবন্ধনে রচিত এই বই বিশ্বের যেকোনো সেরা গোয়েন্দা কাহিনিকেও ছাপিয়ে যায়।
১৯৪৫ সালের ১৮ই আগস্ট নেতাজির তথাকথিত মৃত্যু আদতে একটি সুপরিকল্পিত কাহিনির অংশ —এই দাবিকে লেখক নানা তথ্যপ্রমাণ সহ উপস্থাপন করেছেন। বহু আগেই তিনি দাবি করেছিলেন যে আজাদ হিন্দ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, আমাদের প্রাণের নেতাজি, সোভিয়েত রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় ইয়াকুজা নামক একটি জেলে, সেল নম্বর ৪৫-এ বন্দি ছিলেন। অনেক প্রত্যক্ষদর্শী তাকে সেখানে জীবিত দেখেছেন বলেও উল্লেখ আছে। ব্রিটিশ সরকার কিভাবে বারবার নেতাজিকে নির্মূল করতে চেয়েছিল, তা তুলে ধরেছেন লেখক। সেইসাথে, আইরিশ গবেষক ইউনান ও'হ্যালপিন কর্তৃক প্রকাশিত ব্রিটিশ সরকারের গোপন দলিলের উল্লেখও রয়েছে, যা এই বইয়ের তথ্যভাণ্ডারকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
এই বইতে শুধু অন্তর্ধান রহস্য নয়, নেতাজিকে ঘিরে নানা বিতর্কিত প্রশ্নের — বিশেষত তার ফ্যাসিবাদী ভাবনার সঙ্গে জড়িত বিতর্কের — তথ্যনির্ভর উত্তর দিয়েছেন লেখক। তিনি যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে সুভাষচন্দ্র ফ্যাসিবাদী ছিলেন না, বরং তার রাজনৈতিক কৌশল ছিল বাস্তবভিত্তিক এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রাসঙ্গিক।
বইটি মূলত নেতাজিকে কীভাবে ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনীতি থেকে কোণঠাসা করে দেওয়া হয়েছিল, সেই নির্মম বাস্তবতার বিশ্লেষণ। গান্ধী ও কংগ্রেসের সঙ্গে নেতাজির দ্বন্দ্ব, রাসবিহারী বসু ও বিপ্লবী আন্দোলনের সংযোগ, আজাদ হিন্দ ফৌজের গঠন ও লক্ষ্য, এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিতে ভারত ও বিশ্ব রাজনীতির দিকচিত্র — সব মিলিয়ে বইটি একটি ঐতিহাসিক দলিল। নেতাজির অন্তর্ধান নিয়ে গঠিত নানা তদন্ত কমিশন, প্রকাশিত রিপোর্ট এবং অন্য নানা প্রামাণ্য দলিলের চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন লেখক। তিনি দেখিয়েছেন কিভাবে অধিকাংশ সাক্ষীর বক্তব্যে পরস্পরবিরোধিতা থেকে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে, এবং তার পেছনে রয়েছে একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের গন্ধ।
তবে বইটির একটি দিক কিছু পাঠকের কাছে বিরক্তিকর লাগতে পারে — তথ্যভিত্তিক এই কাহিনির মধ্যে লেখক মাঝে মাঝে তার সৃষ্ট কিছু চরিত্রকে দিয়ে হালকা হাস্যরস ঢোকানোর চেষ্টা করেছেন, যা অনেক ক্ষেত্রেই অপ্রয়োজনীয় ও অদ্ভুত (weird) লেগেছে। এতে তথ্যের টানটান বর্ণনা খানিকটা নষ্ট হয়ে যায়।
তবু এই কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় — নেতাজিকে নিয়ে যারা সত্যিই আগ্রহী, ইতিহাসের গভীরে গিয়ে সত্য খুঁজে পেতে চান, এই বই তাঁদের অবশ্যপাঠ্য। কারণ বাঙালির নেতাজি-প্রীতি চিরন্তন, এবং এই বিষয়ে তর্ক-বিতর্কে যারা যুক্ত হতে চান, তাঁদের বিষয়টি সম্যকভাবে জানতে হলে "সুভাষ ঘরে ফেরে নাই" পড়ে রাখা একান্ত প্রয়োজন।
৩৯২ পৃষ্ঠার এই বইটি বহু মূল্যবান ছবিসহ এক ঐতিহাসিক দলিল। চোখের জলে পড়ে দেখুন — কেন ‘সুভাষ ঘরে ফেরে নাই’?