Writer : Dr. Joydeb Mukhopadhyay
- Shipping Time : 10 Days
- Policy : Return/Cancellation?
You can return physically damaged products or wrong items delivered within 24 hours with photo/video proof.
Contact Customer Support for return initiation and receive return authorization via email. Securely package for return.
Refunds for eligible returns are processed within 7-10 business days via Bank Transfer.
Order cancellation allowed within 24 hours of placing it. Standard policy not applicable for undamaged/wrong product cases. Detailed info. - Genre : Literature>Thriller (Historical/Mythological)
- Publication Year : 2026
- ISBN No : 978-81-92245-24-9
- Binding : Card Board (Hard) with Gel Jacket
- Pages : 680
- Weight : 1300 gms
- Height x Width x Depth : 8.5x5.5x4.5 Inch
If so, it will be notified
About the Book
শ্রীচৈতন্য বা জগন্নাথধাম সম্বন্ধে কিছুমাত্র না জানা মানুষও অক্লেশে বলে দেন, "ওই তো... পুরীর পাণ্ডারা জয়দেববাবুকে খুন করেছিল।"
ড. জয়দেব মুখোপাধ্যায়ের নাম জানেন না, এমন শিক্ষিত বাঙালি বিরল। শ্রীক্ষেত্র তথা জগন্নাথধামের প্রকৃতি নিয়ে গবেষণার সূত্রে তিনি নাকি মহাপ্রভু'র হত্যাকাণ্ডের সংশয়াতীত প্রমাণ পেয়েছিলেন। সেই প্রমাণ যাতে সবার সামনে না আসে, তা নিশ্চিত করার জন্যই নাকি সেই রচনার দ্বিতীয় খণ্ডটি প্রকাশের আগে তাঁকে ও তাঁর মা-কেও হত্যা করা হয়েছিল পুরী-তে। এই কথাগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় অহরহ উঠে আসে। ....... সত্য বা মিথ্যা কোনোটিই আমাদের জানা নেই |
"খ্যাপা খুঁজে খুঁজে ফিরে পরশপাথর।
এতদিনে বুঝি তার ঘুচে গেছে আশ।
খুঁজে খুঁজে ফিরে তবু বিশ্রাম না জানে কভু,
আশা গেছে, যায় নাই খোঁজার অভ্যাস।"
বিপুল অধ্যয়ন, ভ্রমণ ও সাক্ষাতের মাধ্যমে অধীত তথ্য ও তত্ত্ব, তাদের বিশ্লেষণ ও সংযোজন, এমন শ্রমসাধ্য প্রয়াসের মধ্য দিয়ে জয়দেব বেশ কিছু গবেষণাগ্রন্থ রচনা করেছিলেন; যার মধ্যে "ক্ষ্যাপা খুঁজে ফেরে" অন্যতম বই। তবে তাঁদের তিনি পরিবেশন করেছিলেন 'জয়ন্ত' নামক এক আত্মজৈবনিক চরিত্রের চোখ দিয়ে ফিকশনের আকারে।
সেই রচনাবলি ক্ষ্যাপা খুঁজে ফেরে প্রথম খণ্ডটির প্রাথমিক 'ভূমিকা' ইত্যাদির পর, আছে ~
- ১. তন্ত্রের শিকড় সন্ধানে — ঐতিহাসিক শিবের খোঁজে নিজেকে হারিয়ে ফেলার আখ্যান;
- ২. দারুব্রহ্ম রহস্য — জগন্নাথের প্রতিমার প্রকৃত স্বরূপের সন্ধান;
- ৩. বিস্মৃত পরিজন — ভারতের রাজনৈতিক সীমার বাইরেও এ-দেশের সংস্কৃতি, বিশেষত সনাতন ধর্মকে নানা রূপ ও রূপান্তরে রক্ষা করে চলা ক'জন মানুষের কথা এবং ঘটনাপ্রবাহ;
- ৪. নয়ন পথগামী ভব তু মে — জগন্নাথ মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে অনুসন্ধানের এক পর্যায়।
ক্ষ্যাপা খুঁজে ফেরে দ্বিতীয় খণ্ড - প্রয়াত গবেষক ডক্টর জয়দেব মুখোপাধ্যায়ের আরও কিছু মূল্যবান লেখা এই সুমুদ্রিত। বইয়ের প্রথমে থেকেছে 'গুণীজনদের বইটি সম্পর্কে অভিমত'। তারপর এসেছে মোট চারটি লেখা। তাদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত গৌণ লেখা হল ~
- ১) বাসুকীর সন্ধানে — বাল্মীকি রামায়ণে কথিত নানা স্থান ও পুরাকথার সত্য অন্বেষণ নিয়ে লেখা হয়েছে এটি। এতে কিছু আলোচনা যৌক্তিক, কিছু আবার কল্পনার উদ্দাম উড়ানে লাঞ্ছিত। তবে সব মিলিয়ে লেখাটি কৌতূহলোদ্দীপক। কিন্তু এমন একটি প্রবন্ধকেও পশ্চাৎপক্ক বালক জয়ন্ত-কে কেন্দ্রে রেখে ফিকশনের আকারে কেন লেখা হল, সেটাই রহস্য।
- ২) সঙ্গম — অনেকটা কালকূটের লেখার মতো করে প্রয়াগ তথা সংক্রান্তি-স্থানকে পটভূমিতে লেখা হয়েছে এটি। এও ফিকশনের মোড়কে নন-ফিকশন। কিছু মারমুখী ও ঝগড়ুটে চরিত্রের মাধ্যমে ধর্ম, দর্শন, তথা মোক্ষ নিয়ে বিস্তর কথা বলা হয়েছে এতে।
- ৩) হিন্দু মরিসাসের চোখে কেন বিন্দু বিন্দু জল — মরিসাসের ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিকদের মধ্যে আজও টিকে থাকা সনাতন সংস্কৃতি ও ভাবনা নিয়ে একটি স্মৃতিমেদুর লেখা এটি।
ড. মুখোপাধ্যায়ের রচনারাজির আলোচ্য তৃতীয় খণ্ডে অসিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংক্ষিপ্ত ভূমিকার পর আছে এই ক'টি লেখা~
- ১) স্তম্ভিত ইতিহাস — যিশু'র ভারতে আগমন এবং কাশ্মীরে তঁর সমাধির সম্ভাব্য অবস্থান নিয়ে এ এক অমূল্য লেখা। আটের দশকের গোড়ার দিকে এটি রচিত হয়েছিল। সে-সময় এমন বিষয় নিয়ে অনুসন্ধান ও গবেষণা অধিকাংশ মানুষের কাছে অচিন্ত্যনীয় ছিল। দুর্ভাগ্যবশত, এই লেখাটিকেও যথাযথ প্রবন্ধের আকার দেওয়া হয়নি। বরং আত্মজৈবনিক চরিত্র 'জয়ন্ত' এবং কিছু ঝগড়ুটে ও মারকুটে লোকের সঙ্গে তার বিচিত্র আন্তঃক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বক্তব্য পরিবেশন করা হয়েছে। এই অকারণ ফিকশনলাইজেশন বাদ দিয়ে শুধুমাত্র যৌক্তিক বিন্যাসটি, যথাযথ তথ্যসূত্রের সঙ্গে, পরিবেশন করলে লেখাটি আজকের পাঠকের কাছে সম্পদ হয়ে উঠত।
- ২) হায়, তুমি কোথায় — নিতান্ত ছাত্রাবস্থায় ঈশ্বর-সন্ধানে ব্যাপৃত 'জয়ন্ত'-র ঈশ্বরকে পাওয়ার চেষ্টা নিয়ে লেখা হয়েছে এটি। যথারীতি এই লেখাও প্রবন্ধ বা বিশ্লেষণাত্মক স্মৃতিচারণের বদলে কলতলার ঝগড়া আর পশ্চাৎপক্ক বালকের মুখে উদ্ধৃতির বন্যার চেনা কাঠামোতে পরিবেশিত হয়েছে। এমন এক পণ্ডিতকে নিজের গবেষণা এই আকারে পরিবেশনের দুর্বুদ্ধি কে দিয়েছিল, জানতে মন চায়।
- ৩) অগ্নিগর্ভ — জাতিভেদ ও বর্ণ-ব্যবস্থার স্বরূপ সন্ধান তথা প্রচলিত ধারণার ভ্রান্তি-উন্মোচনের উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে এটি। এখানেও 'জয়ন্ত'-র মাধ্যমে লেখক নিজের বক্তব্য শান্তভাবে, আর বিভিন্ন মারমুখী অভদ্রের মুখে তার বিপরীত বক্তব্য পেশ করে লেখাটিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। এরও ছত্রে-ছত্রে কালকূটের প্রভাব স্পষ্ট। অথচ যথাযথ প্রবন্ধ আকারে লিখলে এই লেখার যুক্তিক্রম ও রেফারেন্স নিয়ে নানা কু-প্রথার বিরুদ্ধে আজও লড়া যেত।
এই রচনারাজির প্রসঙ্গে বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ হিসেবে ক'টি কথা আগেই বলে নেওয়া ভালো, সেগুলো হল -
(১) ছাপা ও বাঁধাই খুব ভালো হলেও এই বইয়ের প্রুফ একেবারেই দেখা হয়নি। ফলে প্রাচীন ও ভুল বানানে সম্পূর্ণ বইটি জর্জরিত হয়ে আছে।
(২) লেখক ঠিক কেন এই 'জয়ন্ত' এবং অন্য নানা কাল্পনিক চরিত্রের মাধ্যমে, তাদের সঙ্গে অন্যদের রীতিমতো ঝগড়া (এমনকি হাতাহাতি) বাঁধিয়ে নিজের প্রতিপাদ্য প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, জানি না। তবে আপাতত এগুলো না হয়েছে প্রবন্ধ, না হয়েছে গল্প। বরং পাতার পর পাতা জুড়ে শুষ্ক জ্ঞান আর তাই নিয়ে ক্রমাগত চাপান-উতোর পড়তে গিয়ে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথার মানুষেরও মনে হবে, তিনি বাংলা সিরিয়াল দেখছেন।
(৩) এতে এমন বেশ কিছু কথা লেখা আছে যেগুলো গত ত্রিশ বছরে ভুল বা আরোপিত বলে প্রমাণিত হয়েছে। বইটা জগন্নাথ তথা পুরী নিয়ে গবেষণা করা কোনো নবীন গবেষকের দ্বারা সম্পাদনা করিয়ে নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। একইভাবে প্রথম লেখাটিতে শিব সম্বন্ধে এমন বহু কথা বলা হয়েছে যা একেবারেই ভিত্তিহীন, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে স্বকপোলকল্পিত— যেগুলো কোনো অবস্থাতেই একটি সিরিয়াস লেখায় থাকা উচিত নয়।
**NOTE: This "About the book" is re-written from a few book reviews posted by readers available in the internet.
লেখকের সংক্ষিপ্ত পরিচয়ঃ
বিচারপতি পিতা, বিচারপতি দাদামহাশয়ও, তবু ডক্টর জয়দেব মুখোপাধ্যায় আইন-শিক্ষার পথে পা না বাড়াইয়া-আশৈশব ধর্ম, সংস্কৃতি ও পুরাতত্ত্ব প্রেমী এক সম্পূর্ণ ভিন্ন পথের পথিক। বাল্যকাল হইতেই বহির্মুখী মন। জন্ম তৃতীয় দশকের শেষভাগে-রবীন্দ্র-তীর্থ বোলপুরে। প্রাচ্যদর্শনের উপর ডক্টরেট হলেও মূলতঃ প্রাচীন ভাষা, সাহিত্য এবং সংস্কৃতিই তাঁহার লেখনীর প্রধান বিষয়। ডক্টর মুখোপাধ্যায় মধ্য এশিয়া, জাম্বেসী, তিববত, মঙ্গোলিয়া, যবদ্বীপ প্রভৃতি দেশে ভারতীয় সভ্যতার নিদর্শনের অনুসন্ধানে পরিভ্রমণ করিয়াছেন একাধিকবার।
শিবের ঐতিহাসিকতার উপর গবেষণার জন্য নানা গীরিবর্ত ধরিয়া কৈলাস মানসসরোবরে যাতায়াত করিতে হইয়াছে তাঁহাকে (১ম খণ্ডে বর্ণিত) বারংবার নিজের জীবনকে বিপন্ন করিয়াও। শিব-সংস্কৃতির উপর তাঁহার অনুসন্ধানের ফল অচিরেই পাঠকসমাজে পরিবেশিত হইবে বলিয়া আমরা আশা রাখি। সে এক অনন্যসাধারণ অভিজ্ঞতারঞ্জিত সাহিত্যকর্ম। পুরীর শ্রী আনন্দময়ীর আশ্রমে শেষ জীবন পর্যন্ত থাকিয়া তাঁর গবেষনার কাজ চালাইয়া গিয়াছেন তাঁর লেখার মাধ্যমে।
