Writer : Swami Abhedananda
Edited By : Swami Prajnananda
Compiled By : NA
Translated By : NA
Publishers : Ramakrishna Vedanta Math
- Shipping Time : 10 Days
- Policy : Return/Cancellation?
You can return physically damaged products or wrong items delivered within 24 hours with photo/video proof.
Contact Customer Support for return initiation and receive return authorization via email. Securely package for return.
Refunds for eligible returns are processed within 7-10 business days via Bank Transfer.
Order cancellation allowed within 24 hours of placing it. Standard policy not applicable for undamaged/wrong product cases. Detailed info. - Genre : Essays>Religious & Mythological Criticism
- Publication Year : 2024
- ISBN No : 978-81-88446-10-6
- Binding : Paste Board (Hard)
- Pages : 224
- Weight : 375 gms
- Height x Width x Depth : 8.5x5.5x0.5 Inch
If so, it will be notified
About the Book
- মৃত্যুর পর কি হয় ?
- আত্মার ও কি মৃত্যু হয় না পুনর্জন্ম হয় ?
- অমরতা, পরলোকতত্ত্ব, প্রেততত্ত্ব কি ?
- মৃত্যুর পর দেহ ও মনের কি হয় ?
এই সব নানান জটিল প্রশ্নের বৈজ্ঞানিক ও আধ্যাতিক ব্যাখ্যা আছে স্বামী অভেদানন্দের "মরণের পারে" - এই বইটিতে।
“Life beyond Death” হল স্বামী অভেদানন্দ কর্তৃক ১৯৪৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে (USA) প্রদত্ত একগুচ্ছ বক্তৃতার সংকলন, আর সেই বইয়ের বাংলা অনুবাদ হল "মরণের পারে" বইটি। গ্রন্থের সূচনা থেকে স্বামী অভেদানন্দ পাঠককে জানিয়ে দেন যে এখানে গল্প বা ভৌতিক ঘটনার একত্রিত রূপ নেই; বরং আত্মা, মন, জীবন ও মৃত্যুর সম্পর্ক বোঝার জন্য সুসংগঠিত যুক্তি এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে আলোচনা উপস্থাপন করা হবে। তিনি জানান যে কীভাবে পশ্চিমা সমাজে আত্মিক বিষয়ে ভুল ধারণা এবং ধর্মীয় গোঁড়ামি জন্মেছে এবং তা কাটিয়ে উঠতে দরকার চিন্তা ও প্রমাণভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি।
গ্রন্থের প্রথমার্ধে আত্মা, মৃত্যু এবং পুনর্জন্মের মতো গভীর বিষয়ের উপর দার্শনিক ও তাত্ত্বিক আলোচনার মাধ্যমে পাঠককে আত্মার প্রকৃতি ও তার অস্তিত্ব সম্পর্কিত বোধগম্য জ্ঞান প্রদান করা হয়েছে। এখানে আত্মা কী, মন ও মস্তিষ্কের সম্পর্ক, মৃত্যুর পর কী ঘটে — এসব প্রশ্নে বৈজ্ঞানিকতাকে প্রাধান্য দিয়ে যুক্তি তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন ধর্মের — বিশেষত হিন্দুধর্মের বেদান্ত দর্শন ও অন্যান্য ধর্মবিশ্বাসের তুলনামূলক অধ্যয়নও করা হয়েছে, জ্ঞানতত্ত্ব ও চিন্তার ভিন্নতার দিকটি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই অধ্যায়ে স্বামী আত্মার প্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আধুনিক বস্তুবাদী বিজ্ঞান ধরে যে “চেতনা শুধুই মস্তিষ্কের কার্যকলাপ,” তাই দেহ মৃত হলে চেতনাও ক্ষণভঙ্গুর হয়ে যায়। তিনি যুক্তি দেন:
- চেতনা শুধুই শরীরের উপাদান হতে পারে না।
- অভিজ্ঞতা, স্মৃতি, চিন্তা ও অনুভূতি যে কেবল তন্ত্রিকা বা রসায়নের অবস্থা তা দিয়ে ব্যাখ্যা হয় না।
- বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও অতিপ্রাকৃত অভিজ্ঞতা চেতনার অদৃশ্য দিকের কথা ব্যাখ্যা করে।
এখানে মূলভাবে বলা হয় — চৈতন্যের উৎপত্তি এবং অস্তিত্বকে শুধুমাত্র মস্তিষ্ক-ভিত্তিক হিসেবে ধরা যুক্তিযুক্ত নয়।
গ্রন্থের দ্বিতীয় অংশে মৃত্যুর পরবর্তী অস্তিত্ব বা দেহাতীত জীবন নিয়ে আলোচনার গভীরে যাওয়া হয়েছে। এখানে আত্মা মৃত্যুর প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার মতোই একটি “গভীর নিদ্রার” অবস্থায় প্রবেশ করে — যা শারীরিক মৃত্যু এবং জন্মের মধ্যবর্তী অবস্থার অনুরূপ — এই দৃষ্টান্ত ব্যাখ্যা করা হয়েছে। মৃত্যু শুধু শারীরিক দেহের ক্ষয়; আত্মা তার সাংস্কৃতিক ও মানসিক কর্মফল বা স্মৃতিসমূহ নিয়ে উত্তরজগতের দিকে অগ্রসর হয়। এখানে মৃত্যুকে শুধুমাত্র জীবদেহের বিলুপ্তি হিসেবে দেখার ধারণা বিশ্লেষণ করা হয়। স্বামী বারংবার বলেন:
- শারীরিক মৃত্যু মানেই আত্মার বিলুপ্তি নয়।
- মৃত্যু হচ্ছে দেহাতীত অবস্থায় আত্মার অবস্থানান্তর — এক প্রকার গভীর নিদ্রার সময়।
- মৃত্যুর পর আত্মা তার কর্মফল, বাসনা ও চিন্তার ধারাকে করে নিয়ে চলে।
এই অধ্যায়ে তিনি বিভিন্ন ধর্মবিশ্বাসের দৃষ্টিভঙ্গির তুলনামূলক বিশ্লেষণও করেন — উদাহরণস্বরূপ:
- উত্তরে লিখিত বিশ্বাসগুলোর তর্ক;
- হিন্দু বেদান্ত দর্শনের কর্ম-বিধান;
- পুনর্জন্মের বৈজ্ঞানিক, দার্শনিক ও আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা।
গ্রন্থের এক বড় অংশে তিনি খ্রিষ্টীয় ধর্মতত্ত্বের কিছু প্রচলিত ধারণাকে সমালোচনা করেছেন:
- নরকে চিরন্তন শাস্তির ধারণা;
- মৃত্যুর পর দেহের পুনরুত্থান;
- আত্মার জন্ম আছে কিন্তু মৃত্যুর নেই — এই বিশ্বাসসমূহ।
এখানে তিনি যুক্তি করেছেন যে এইসব ধারনা অযৌক্তিক ও বহু ক্ষেত্রে মানুষের মনকে শাস্তি-ভীতিতে বন্দি করে। মৃত্যুকে আমাদের ভয় করার কিছু নেই। মৃত্যু পরিবর্তন বা অবস্থার বিবর্তন ছাড়া অন্য কিছু নয়। আসলে মৃত্যুর সময় জড়দেহটাকেই আমরা পুরাতন ব'লে ত্যাগ করি। প্রত্যেকের জন্যই একটা অনন্ত জীবন আছে, কোন জীবনই বিফলে যায় না।
গ্রন্থের শেষে স্বামী অভেদানন্দ একমাত্র জোরালো বার্তা দেন, "মৃত্যুই সবশেষ নয়, বরং আত্মার এক দীর্ঘ যাত্রা শুরু — যা জীবন, কর্ম, পরিণতি এবং আত্মিক বিকাশের ধারাবাহিক অভিজ্ঞতা।"
