Writer : Sankar (Manishankar Mukherjee)
- Shipping Time : 10 Days
- Policy : Return/Cancellation?
You can return physically damaged products or wrong items delivered within 24 hours with photo/video proof.
Contact Customer Support for return initiation and receive return authorization via email. Securely package for return.
Refunds for eligible returns are processed within 7-10 business days via Bank Transfer.
Order cancellation allowed within 24 hours of placing it. Standard policy not applicable for undamaged/wrong product cases. Detailed info. - Genre : Essays>Personality Analysis
- Publication Year : 2019
- ISBN No : 978-93-89377774
- Binding : Paste Board (Hard) with Gel Jacket
- Pages : 330
- Weight : 515 gms
- Height x Width x Depth : 8.5x5.5x01 Inch
If so, it will be notified
About the Book
শংকরের গবেষণামূলক লেখার প্রতি আকর্ষণ স্বাভাবিক, কিন্তু একজন সন্ন্যাসীর খাদ্যরুচি, এমনকি দুঃসময়ে তাঁর অনাহারের কষ্ট পর্যন্ত বই আকারে এমন বিশদভাবে প্রকাশ পেতে পারে — এ যেন কল্পনাতীত। স্বামীজীর কিছু খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে আমরা আগেও খানিকটা জানতাম, তবে এই গ্রন্থে তা সুসংগঠিত ও বিস্তৃত আকারে ধরা পড়েছে। এখানে শুধু স্বামীজীর ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ বা খাদ্য-ভাবনাই নয়, সেই সময়কার বাঙালির পাতে কী থাকত তারও এক জীবন্ত আভাস মিলেছে।
বইটির বিভিন্ন অংশে শংকর সাহায্য নিয়েছেন স্বামীজীর সহোদর ভাই মহেন্দ্রনাথ দত্তের স্মৃতিচারণ থেকে। এই পরিবারের সাহস ও অদম্য মানসিকতা যেমন অনন্য, তেমনি তাদের খাদ্যসংস্কৃতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। স্বামীজীর শৈশবে রসগোল্লার লোভে দক্ষিণেশ্বরে ঠাকুরের কাছে যাওয়ার ঘটনা থেকে শুরু করে সন্দেশের প্রচলন কিংবা বাঙালির খাদ্যতালিকায় নানা বিদেশি উপাদান সংযোজনের গল্প—সবই উঠে এসেছে এই বইয়ে।
বিদেশের নানা প্রদেশের খাদ্য নিয়ে স্বামীজীর মতামতও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দেশ-বিদেশ ভ্রমণে মাংসাহার নিয়ে তাঁর কোনো সংকোচ ছিল না। তিনি স্পষ্টই বলতেন, সন্ন্যাসীর আহার বিচার করে দেখা উচিত নয়। এ কারণে তাঁকে অনেক সময় সমালোচনা ও অপমানের মুখেও পড়তে হয়েছে। শাস্ত্রের উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রাচীন ঋষিরাও মাংসাহারী ছিলেন; পরবর্তীকালে বৌদ্ধধর্মের প্রভাবে নিরামিষভোজনের প্রচলন বাড়ে। তবে তিনি কখনোই জীবহত্যাকে সমর্থন করেননি। তাঁর মতে, যে দেশে দারিদ্র্য প্রবল এবং যেখানে সুলভে পুষ্টিকর খাদ্য পাওয়া কঠিন, সেখানে সস্তায় প্রাপ্ত মাংস খাওয়ায় নৈতিক দোষ নেই।
তবু আদ্যন্ত খাদ্যরসিক বিবেকানন্দের জীবন ভোজনকেন্দ্রিক ছিল না। পিতা বিশ্বনাথের অকালমৃত্যুর পর পরিবারে নেমে আসে চরম দারিদ্র্য। সেই প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই শুরু হয় তাঁর পরিব্রাজক জীবনের পথচলা—যাঁকে আমরা বিবেকানন্দ নামে জানি। কখনো অর্থের অভাব, কখনো সেবকের অভাব, কখনো ভিক্ষা না পাওয়া—এভাবেই কেটেছে তাঁর সন্ন্যাসজীবনের বহু দিন। এমনও সময় গেছে, যখন একমুঠো অন্ন জোটেনি; কেবল জল পান করেই ক্ষুধা নিবারণ করতে হয়েছে। তবু তিনি অবিচল ছিলেন, অদম্য ছিলেন।
