Welcome to Dorlink
Selected Books
×
Chowringhee । চৌরঙ্গী

Edited By : NA

Compiled By : NA

Translated By : NA

Publishers : Deys Publishing

  • Shipping Time : 10 Days
  • Policy : Return/Cancellation?

    You can return physically damaged products or wrong items delivered within 24 hours with photo/video proof.
    Contact Customer Support for return initiation and receive return authorization via email. Securely package for return.

    Refunds for eligible returns are processed within 7-10 business days via Bank Transfer.
    Order cancellation allowed within 24 hours of placing it. Standard policy not applicable for undamaged/wrong product cases. Detailed info.

  • Genre : Literature>Novels & Novellas
  • Publication Year : 2025
  • ISBN No : 978-81-29515-37-7
  • Binding : Card Board (Hard) with Gel Jacket
  • Pages : 479
  • Weight : 650 gms
  • Height x Width x Depth : 8.5x5.5x1.5 Inch
MRP : ₹500.00/- Discount : 13% Off
Your Price : ₹435.00/-
MRP is subject to change as per edition/impression by the publisher.
If so, it will be notified

About the Book

বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক শংকর (মণি শংকর মুখোপাধ্যায়) রচিত ‘চৌরঙ্গী’ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় এবং কালজয়ী একটি উপন্যাস। ১৯৬২ সালে প্রকাশিত এই বইটি কলকাতার বিখ্যাত ‘শাহজাহান’ হোটেলকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। এটি কেবল একটি হোটেলের গল্প নয়, বরং সেই হোটেলের চার দেয়ালের মাঝে আটকে থাকা অসংখ্য মানুষের আনন্দ, বেদনা, স্বপ্ন এবং ভাঙাগড়ার এক মহাকাব্য। এ কথা যদি বলি যে, বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয়তম উপন্যাসের তালিকা করলে চৌরঙ্গী উপরের দিকেই থাকবে — তখন অনেকে ভ্রু কুচকে বসবে। কিন্তু পপুলার উপন্যাস লেখা মোটেও সহজ না। আর উপন্যাসের বিষয়বস্তু যখন এরকম অপ্রচলিত, তখন জনপ্রিয়তা টিকিয়ে রাখা শুধু জটিলতরই হয়।

লেখক শংকরের ট্রিলজির ২য় বই চৌরঙ্গী। যদিও ফিকশনাল তবুও এটাতেও তার ব্যক্তিগত জীবনের সংগ্রামের একটা অংশ চলে এসেছে। কত অজানারে ঠিক যেখানে শেষ হয়েছিল তারপর থেকেই এর গল্প শুরু।

প্রিয় বারওয়েল সাহেবের মৃত্যুর পর শংকর পণ করেন এ কোর্ট পাড়ায় আর নয়, যেখানে সায়েব নেই সেখানে সায়েবের বাবু থাকবে কি করে! কিন্তু কোর্ট পাড়ার এই ভাঙা-গড়ার নির্মম দৃশ্য থেকে মুক্তি পেলেও পড়েছিলেন বাস্তবতার যাতাকলে। চাকরি নেই, চাকরির বাজারও ভয়াবহ। এসএসসির সার্টিফিকেট হাতে ঘুরেছেন দ্বারে দ্বারে। শেষে ঝুড়ি ফেরির কাজ ধরলেন। চৌরঙ্গীতে বসে থেকে ভাবছিলেন অনেক কিছু, সেই সময় পান মিস্টার বায়রনের দেখা। কপাল হয়তো খুললো!! রিসেপসনিস্টের কাজ পেলেন বনেদী হোটেল শাজাহানে। চৌরঙ্গী শুধু একটি হোটেলের নাম নয়, এটি আসলে এক টুকরো কলকাতা যেখানে আলো-ছায়া, বিলাস-বেদনা পাশাপাশি বসবাস করে। চৌরঙ্গী মোড়ের শাহজাহান হোটেলকে কেন্দ্র করে শংকর এমন এক জগৎ নির্মাণ করেছেন, যেখানে হোটেলের স্টাফ আর অতিথিদের জীবন পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়ে ধীরে ধীরে মানুষের মুখোশের আড়ালের যে সত্য লুকিয়ে থাকে তা উন্মোচন করে।

এই উপন্যাসে হোটেলটি যেন একটি ক্ষুদ্র সমাজ। এখানে কর্মরত মানুষগুলোকে প্রতিদিন অন্যের স্বাচ্ছন্দ্য গড়ে তুলতে গিয়ে নিজের স্বপ্ন, ভালোবাসা আর ব্যর্থতাকে নীরবে বহন করে। আবার অতিথিরা আসে অস্থায়ী ঠিকানায়, কিন্তু তাদের আনন্দ, গ্লানি, অহংকার কিংবা একাকিত্ব হোটেলের করিডোরে স্থায়ী ছাপ ফেলে যায়। শংকর খুব স্বাভাবিক ভাষায় দেখিয়েছেন যে জীবন বাইরে থেকে ঝকঝকে মনে হয়, তার ভেতরে কতটা শূন্যতা আর অসহায়তা লুকিয়ে থাকে। উপন্যাসটির জনপ্রিয়তার পেছনে একটি কারণ হতে পারে নারী চরিত্রগুলো। ক্যারেক্টারগুলো মেলোড্রামা দিয়ে ভর্তি। অনেক জায়গায় গল্প খুব ট্র্যাজিক, শংকর বরং পুরুষ চরিত্রদের লিখেছেন ভালো। একটু সাহস করে আঙুল তাক করে বললে — স্যাটা বোস আর লেনিনবাবু। লেখকের কৃতিত্ব এখানেই, তিনি কাউকে নায়ক বা খলনায়ক বানাননি। বরং প্রতিটি চরিত্রকে মানুষ হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন ত্রুটি, স্বপ্ন আর সীমাবদ্ধতা নিয়ে। সংলাপ ও বর্ণনায় এক ধরনের সংযত আবেগ আছে, যা পাঠককে নাটকীয়তায় নয়, বাস্তবতার গভীরে টেনে নেয়।

শেষ পর্যন্ত চৌরঙ্গী হয়ে ওঠে সময় ও সমাজের দলিল। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় পেশা, শ্রেণি কিংবা অবস্থান আলাদা হলেও মানুষের ভেতরের একাকিত্ব, ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা আর বেঁচে থাকার সংগ্রাম প্রায় একই। তাই শাহজাহান হোটেলের গল্প পেরিয়ে চৌরঙ্গী আসলে আমাদেরই গল্প, যা বহু বছর পরেও তার প্রাসঙ্গিকতা হারায় না। যা শুন্যে শুরু তা বোধহয় শূন্যেই শেষ! শংকরের উপন্যাসটি পড়ে তাই উপলব্ধি হয়। মানুষ বদলে যায় সময়ের প্রয়োজনে, কিংবা জীবনের তাগিদে। পিছে পড়ে থাকে শূন্য অনুভূতি।

১৯৬৮ সালে পিনাকী ভূষণ মুখার্জির পরিচালনায় চৌরঙ্গী নামে একটি ছবি মুক্তি পায়। ছবিটিতে উত্তম কুমার , অঞ্জনা ভৌমিক এবং শুভেন্দু চ্যাটার্জী প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। চৌরঙ্গীর ইংরেজি অনুবাদ ২০০৭ সালে অরুণাভ সিনহার সেরা অনুবাদের জন্য ভোডাফোন ক্রসওয়ার্ড বুক পুরস্কার জিতেছিল। এটি ২০১০ সালের স্বাধীন বিদেশী কল্পকাহিনী পুরস্কারের জন্যও সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত হয়েছিল।