Welcome to Dorlink
Selected Books
×
Nil Rakto Lal Hoye Gechhe

Edited By : NA

Compiled By : NA

Translated By : NA

Publishers : D M Library

  • Shipping Time : 10 Days
  • Policy : Return/Cancellation?

    You can return physically damaged products or wrong items delivered within 24 hours with photo/video proof.
    Contact Customer Support for return initiation and receive return authorization via email. Securely package for return.

    Refunds for eligible returns are processed within 7-10 business days via Bank Transfer.
    Order cancellation allowed within 24 hours of placing it. Standard policy not applicable for undamaged/wrong product cases. Detailed info.

  • Genre : Literature>Autobiography & Biography
  • Publication Year : 2025
  • ISBN No : 978-81-71131-31-0
  • Binding : Paste Board (Hard) with Gel Jacket
  • Pages : 130
  • Weight : 250 gms
  • Height x Width x Depth : 8.5x5.5x0.5 Inch
MRP : ₹300.00/- Discount : 15% Off
Your Price : ₹255.00/-
MRP is subject to change as per edition/impression by the publisher.
If so, it will be notified

About the Book

সুভো ঠাকুর। পুরো নাম সুভগেন্দ্রনাথ ঠাকুর। জন্ম ১৯১২ সালে, মৃত্যু ১৯৮৫ সালে। শৈশব থেকেই ঠাকুরবাড়ির নির্ধারিত শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে 'কালাপাহাড়' চিহ্নিত হয়েছিলেন। ঠাকুরবাড়ির বাইরেও বেশ ভূষার আদবকায়দা, ছবি আঁকা, সাহিত্য রচনা, প্রতি ক্ষেত্রেই ফুটে উঠেছে প্রথাভাঙা ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য। অলংকরণ, মোটিফ, নক্শা ও 'জ্যামিতিকে মিলিয়ে-মিশিয়ে তিনি চিত্রকলায় অভিনবত্ব এনেছিলেন। লেখায় প্রবর্তন করেছিলেন এক নতুন গদ্যরীতি ও ছন্দের। ঠাকুরবাড়ির আভিজাত্যকে ঝেড়ে ফেলে 'নীল রক্ত'লাল হয়ে গেছে' গ্রন্থটি লিখে সাহিত্য মহলে আলোড়ন তুলেছিলেন। শিল্প সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা 'সুন্দরম' উল্লেখযোগ্য তাঁর সংম্পাদনার গুণে।

-- 'পয়েট টেগর কে হন তোমার, জোড়াসাঁকোতেই থাকো?
-- বাবার খুড়ো যে হন শুনিয়াছি, মোর কেহ হয় নাকো।’

যেখানে আমরা সামান্য আলো দেখলেই পতঙ্গের মত ধাই, সেখানে এভাবে নিজেই নিজের বিশ্ববরেণ্য আত্মীয়কে অস্বীকার করেছিলেন সুভগেন্দ্রনাথ ঠাকুর। ঠাকুরবাড়ির কালাপাহাড়, ব্ল্যাকশিপ। পৈতৃক সম্পত্তির অংশ হাতে পেয়ে সাহিত্যচর্চা, বন্ধুপোষণ ও নানান বিচিত্র খেয়ালে বেশ কয়েকলক্ষ টাকা অল্প সময়ের মধ্যে নিঃশেষ করে দিয়েও কখনো আক্ষেপ করেননি।

হাতের আঙুলের উপর সিন্দুকের ডালা পড়ে আঘাত পেয়েছিলেন মহর্ষি-পত্নী সারদাদেবী। কেউ স্মৃতিকথাতে জানাচ্ছেন আঙুল মটকে তিনি মারা যান। সারদাদেবীর অস্ত্রপচার হয়েছিল। দেবেন্দ্রপুত্র হেমেন্দ্রনাথ নিজের বাহুমূল থেকে ‘বৃহৎ মাংসখণ্ড’ কেটে তাঁর মায়ের হাতে প্রতিস্থাপণ করেন। হেমেন্দ্রনাথের মাতৃভক্তি অনালোচিত হলেও তা বিদ্যাসাগরের মতো প্রবাদতুল্য। এই হেমেন্দ্রনাথের পুত্র ঋতেন্দ্রনাথের (‘মুদীর দোকান’-এর স্রষ্টা) সন্তান সুভো ঠাকুর। তবু ঠাকুরবাড়ি তাঁর নেহাত অপছন্দ। তিনি জানান, ‘সে পৃথিবী ছিল না, তার আস্বাদ ছিল অস্বাভাবিক, অন্যরকম। তার অঙ্গে ছিল যেন অন্য কোন গ্রহের আঘ্রাণ। সে জগৎ ছিল অদ্ভুত, অদ্ভুত সেখানকার জীবেরা। সেখানকার লোকেরা ছান্দগ্য উপনিষদ-এর উপদেশ অনুযায়ী চলতো গুনে গুনে পা ফেলে, বেদান্তের দৃষ্টান্তে হাসতো, আর কালিদাসের কবিতার কায়দায় কওয়াকয়ি করতো কথা। শৈশবকাল থেকেই চলতো বংশের রীতি অনুযায়ী অসাধারণ তৈরী করার সাংঘাতিক প্রচেষ্টা। মহা মহা আদর্শের অসংখ্য ইনজেকশানে শৈশব জীবন হত জর্জরিত। শীত নেই, গ্রীষ্ম নেই, অরুনোদ্গমের আগেই নিয়মিত বিছানা ছেড়ে উঠতে বাধ্য হতেন, নতুবা স্মেলিং সল্টের তীব্র ঝাঁকুনি ঘুমন্ত শিরা উপশিরায় আচমকা জাগরণের নিষ্ঠুর চাবুকের মতো পড়তো অতি নির্মমভাবে, তারপর শীতল জলে স্নান সমাপন শেষে এক ঘন্টা করতে হত উপনিষৎ পাঠরূপ ভগবৎ-ভজনা, তারপর ব্যায়ামচর্চা অন্তে আরম্ভ হত শিক্ষকের মারফৎ অধ্যয়ণের আয়োজন — শিল্প শিক্ষক, সংগীত শিক্ষক, ব্যায়াম শিক্ষক, এম্নিধারা সংখ্যাহীন শৃঙ্খলিত শিক্ষকদের শিক্ষায় সময়গুলো সর্বদাই সজারুর শরীরের মতই থাকতো সাংঘাতিকরকম কন্টকাকীর্ণ।’

তবু তিনি শিল্প চর্চা করেছেন। বেঙ্গল স্কুল-এর শিল্পচিন্তা থেকে দূরে সরে এসে ১৯৪৩ সালে গঠন করেছিলেন ক্যালকাটা গ্রুপ । চিত্রশিল্পী সুভো ঠাকুর শুধু ছবি আঁকেননি, পাশাপাশি শিল্পকলার ব্যবহারিক দিকেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিলেন। বস্ত্রবুননের মধ্যে চিত্রকলার রূপবন্ধনে এক অন্যমাত্রিকতায় তাঁর সৃষ্টিতে প্রকাশ পেতে থাকে। চিত্রশিল্পে এক নতুন প্রয়াসকে উপস্থাপন করেন — ‘ছোট ছোট বর্গাকার খণ্ড দিয়ে, প্রায় জ্যামিতিক শৃঙ্খলে প্রতিকৃতি রচনায় সফলকাম হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন ভারতীয় পরম্পরায় কারুকলার সমঝদার। তাঁর ছবিতে এই কারুশিল্পীর শৃঙ্খলাবোধের সঙ্গে অলঙ্করণ প্রীতিও যুক্ত রয়েছে।’আর্ট কলেজে পড়ার সময় চতুরঙ্গ পত্রিকার চার পাঁচ সংখ্যা তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। সুন্দরম-এর উদ্দেশ্য শিল্পী, সাহিত্যিক ও জনসাধারণ-এই তিনের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করা। সুন্দরম প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ‘স্বাধীনতা দিবস’, ইংরেজি ১৫ আগস্ট, ১৯৫৬। প্রচ্ছদ সজ্জা ও লিখন শিল্পী ছিলেন সত্যজিৎ রায়। সুন্দরম সব দিক থেকে ছিল অভিনব। সুন্দরম-এর নিয়মিত বিভাগ ছিল — সম্পাদকীয়, গ্রন্থজগৎ, খবরাখবর, প্রদর্শনী পরিক্রমা, প্রবন্ধ, গল্প, কবিতা, ভ্রমণকাহিনী, চলচ্চিত্র সমালোচনা।

এমন একজন মানুষের এক ব্যাতিক্রমী আত্মজীবনী হাতে এলে এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলতে হয় বইকি!! লেখকের নিজের ভাষায় যা অটোবায়োগ্রাফি, উপন্যাস, পারসোনাল এসে আর ছোটগল্পের জগাখিচুড়ি- "অবশ্য জগা বাদ দিলে যেটুকু পড়ে থাকে, তা বর্ষাকালে রোমাঞ্চ রচনা করে, আমার জন্য তা-ই যথেষ্ট"