Writer : No Name/Unknown
Edited By : Kamikshya Nath Mukhopadhyay
Compiled By : NA
Translated By : NA
Publishers : Nababharat Publishers
- Shipping Time : 10 Days
- Policy : Return/Cancellation?
You can return physically damaged products or wrong items delivered within 24 hours with photo/video proof.
Contact Customer Support for return initiation and receive return authorization via email. Securely package for return.
Refunds for eligible returns are processed within 7-10 business days via Bank Transfer.
Order cancellation allowed within 24 hours of placing it. Standard policy not applicable for undamaged/wrong product cases. Detailed info. - Genre : Spirituality>Hinduism
- Publication Year : 2018
- ISBN No : NA
- Binding : Paste Board (Hard) with Gel Jacket
- Pages : 364
- Weight : 510 gms
- Height x Width x Depth : 09x06x0.75 Inch
If so, it will be notified
About the Book
রাধাতন্ত্রম একটি বিরল ও গুপ্ততাত্ত্বিক গ্রন্থ, যা মূলত বৈষ্ণব তন্ত্রসাধনার একটি বিশেষ শাখার অন্তর্গত। এই গ্রন্থে রাধা তত্ত্বকে কেবল ভক্তিমূলক বা পৌরাণিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং এক গভীর আধ্যাত্মিক শক্তি ও তান্ত্রিক সাধনার কেন্দ্রীয় প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রচলিত বৈষ্ণব সাহিত্যে যেখানে রাধাকে শ্রীকৃষ্ণের পরম প্রেমিকা ও ভক্তির শ্রেষ্ঠ আদর্শ হিসেবে দেখা হয়, সেখানে এই গ্রন্থ রাধাকে স্বয়ং পরাশক্তি, মহামায়া ও চিত্তবৃত্তির সর্বোচ্চ শক্তিরূপে বিশ্লেষণ করে। এর ফলে রাধার ধারণা এখানে একেবারেই নতুন মাত্রা লাভ করে, যা তন্ত্রশাস্ত্রের শক্তি-উপাসনার সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত।
গ্রন্থটির আলোচনায় রাধা-কৃষ্ণ সম্পর্ককে কেবল লীলারূপে নয়, বরং শক্তি ও শক্তিমান-এর অদ্বৈত ঐক্য হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এখানে কৃষ্ণ চেতনার পরম পুরুষতত্ত্ব এবং রাধা সেই চেতনার গতিশীল শক্তি, যিনি সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়ের মূল কারণ। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে রাধা তন্ত্রম মূলত শক্তি সাধনার একটি বিশেষ রূপ, যেখানে সাধক রাধারূপী শক্তির আরাধনার মাধ্যমে আত্মজ্ঞান ও পরমাত্মার সঙ্গে ঐক্য স্থাপনের চেষ্টা করে। গ্রন্থে বিভিন্ন মন্ত্র, যন্ত্র, সাধনপদ্ধতি এবং গূঢ় আচারবিধির বর্ণনা পাওয়া যায়, যা সাধারণ ভক্তিমূলক অনুশীলন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং অধিকতর অন্তর্মুখী ও সাধনামুখী।
এই গ্রন্থে তান্ত্রিক দীক্ষা, কুণ্ডলিনী জাগরণ, চক্রবিজ্ঞান এবং মানসিক রূপান্তরের বিষয়গুলিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে। রাধাকে এখানে কুণ্ডলিনী শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যিনি মুলাধার থেকে সহস্রার পর্যন্ত আরোহন করে সাধককে চূড়ান্ত মুক্তির পথে নিয়ে যান। ফলে রাধা তন্ত্রম কেবল ধর্মীয় গ্রন্থ নয়, বরং একটি আধ্যাত্মিক ও মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তরের পথনির্দেশিকা হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
এছাড়া গ্রন্থটি গূঢ় প্রতীক ও রূপকের মাধ্যমে মানব মনের গভীর স্তর, প্রেমের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য এবং ব্রহ্মাণ্ডের সূক্ষ্ম শক্তির ব্যাখ্যা প্রদান করে। এখানে প্রেমকে কেবল আবেগ নয়, বরং এক শক্তিশালী রূপান্তরমূলক শক্তি হিসেবে দেখা হয়েছে, যা সাধককে আত্মবিসর্জনের মাধ্যমে পরম সত্যের উপলব্ধিতে সাহায্য করে। এই কারণে রাধা তন্ত্রমকে অনেক সময় “দিব্য প্রেমের তন্ত্র” বলেও অভিহিত করা হয়।
সামগ্রিকভাবে, রাধাতন্ত্রম একটি জটিল, রহস্যময় এবং উচ্চস্তরের আধ্যাত্মিক গ্রন্থ, যা সাধারণ পাঠকের জন্য নয় বরং তন্ত্রসাধনায় আগ্রহী ও দীক্ষিত সাধকদের জন্য অধিক উপযোগী। এর ভাষা, প্রতীক ও তত্ত্ব এতটাই গূঢ় যে যথাযথ গুরু বা নির্দেশনা ছাড়া এর প্রকৃত অর্থ উপলব্ধি করা কঠিন। তবুও, ভারতীয় আধ্যাত্মিক সাহিত্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন, কারণ এটি ভক্তি ও তন্ত্র—এই দুই ধারার এক অভিনব সমন্বয় উপস্থাপন করে এবং রাধাতত্ত্বকে এক নতুন, গভীর ও দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে অনুধাবনের সুযোগ করে দেয়।
