Writer : Raghunath Bhattacharya Tarkabagish
Edited By : Prof. Panchanan Shastri
Compiled By : NA
Translated By : Prof. Panchanan Shastri
Publishers : Nababharat Publishers
- Shipping Time : 10 Days
- Policy : Return/Cancellation?
You can return physically damaged products or wrong items delivered within 24 hours with photo/video proof.
Contact Customer Support for return initiation and receive return authorization via email. Securely package for return.
Refunds for eligible returns are processed within 7-10 business days via Bank Transfer.
Order cancellation allowed within 24 hours of placing it. Standard policy not applicable for undamaged/wrong product cases. Detailed info. - Genre : Spirituality>Hinduism
- Publication Year : 2022
- ISBN No : NA
- Binding : Paste Board (Hard)
- Pages : 1528
- Weight : 1499 gms
- Height x Width x Depth : 09x06x2.3 Inch
If so, it will be notified
About the Book
ভারতীয় আধ্যাত্মিক সাধনা ও দর্শনের ইতিহাসে তন্ত্রশাস্ত্র একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। এই তন্ত্রশাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলির মধ্যে “আগম তত্ত্ব বিলাস” বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বাংলাভাষায় রচিত এই গ্রন্থটি তন্ত্র, আগম এবং আধ্যাত্মিক সাধনার নানা দিককে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছে। ফলে এটি শুধু সাধকদের জন্য নয়, গবেষক ও সাধারণ আগ্রহী পাঠকদের কাছেও এক মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।
“আগম” শব্দটির অর্থ হলো ঐশ্বরিক জ্ঞান, যা গুরু-শিষ্য পরম্পরায় প্রাপ্ত হয়েছে। আগম শাস্ত্র মূলত শৈব, শক্ত এবং বৈষ্ণব তন্ত্রের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এতে দেব-দেবীর উপাসনা, মন্ত্র, যন্ত্র, পূজা-পদ্ধতি এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির বিভিন্ন উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। “আগম তত্ত্ব বিলাস” এই সমস্ত বিষয়কে সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপন করে পাঠকের সামনে তুলে ধরে।
এই গ্রন্থের অন্যতম প্রধান বিষয় হলো তন্ত্রতত্ত্ব। এখানে ব্রহ্ম, শক্তি এবং সৃষ্টিজগতের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তন্ত্র মতে, শক্তিই হল সৃষ্টির মূল চালিকা শক্তি এবং শিব ও শক্তির মিলনের মধ্য দিয়েই বিশ্বজগতের সৃষ্টি ও স্থিতি ঘটে। এই দর্শন মানুষের আত্মিক উন্নতির পথ নির্দেশ করে এবং দেখায় কীভাবে ব্যক্তি আত্মা পরমাত্মার সঙ্গে একাত্ম হতে পারে।
এছাড়া গ্রন্থটিতে মন্ত্র ও সাধনার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন তান্ত্রিক মন্ত্র, যন্ত্র এবং সাধনার পদ্ধতি বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা সাধকদের জন্য একটি নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করে। কুণ্ডলিনী শক্তির জাগরণ, যোগসাধনা এবং ধ্যানের মাধ্যমে আত্মিক উন্নতি লাভের উপায়ও এতে আলোচিত হয়েছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রন্থটি শুধুমাত্র তত্ত্ব নয়, বরং একটি ব্যবহারিক সাধনা-পথও নির্দেশ করে।
“আগম তত্ত্ব বিলাস”-এ আচার ও পূজা-পদ্ধতির কথাও বিশদভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। মন্দির নির্মাণ, দেবতার আরাধনা, যজ্ঞ ও হোম প্রভৃতি বিষয়ে নির্দিষ্ট নিয়ম ও পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে। এইসব নির্দেশনা তান্ত্রিক আচার-অনুষ্ঠানকে সঠিকভাবে সম্পাদন করতে সহায়তা করে।
বাংলা সাহিত্যে এই গ্রন্থের গুরুত্ব অপরিসীম। তন্ত্রশাস্ত্রের অধিকাংশ গ্রন্থ সংস্কৃত ভাষায় রচিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে তা বোঝা কঠিন। সেই ক্ষেত্রে “আগম তত্ত্ব বিলাস” বাংলায় রচিত হওয়ায় এটি সহজলভ্য হয়েছে এবং তন্ত্রশাস্ত্রের জ্ঞানকে বৃহত্তর পাঠকসমাজের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।
তবে এই গ্রন্থের কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এর ভাষা ও বিষয়বস্তু অত্যন্ত জটিল, যা সাধারণ পাঠকের পক্ষে অনুধাবন করা কঠিন হতে পারে। তন্ত্রশাস্ত্রে বহু প্রতীক ও রূপক ব্যবহার করা হয়, যার যথার্থ অর্থ বোঝার জন্য পূর্বজ্ঞান প্রয়োজন। এছাড়া তান্ত্রিক সাধনা সঠিকভাবে না করলে তা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তাই এই ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ গুরুর নির্দেশ অপরিহার্য।
সর্বোপরি বলা যায়, “আগম তত্ত্ব বিলাস” একটি গভীর ও প্রামাণ্য তান্ত্রিক গ্রন্থ, যা ভারতীয় আধ্যাত্মিক দর্শনের এক গুরুত্বপূর্ণ দিককে তুলে ধরে। এটি শুধু তত্ত্বের আলোচনা নয়, বরং সাধনা ও আত্মিক উন্নতির একটি পথপ্রদর্শক। যারা তন্ত্র, যোগ ও আধ্যাত্মিকতার গভীরে প্রবেশ করতে চান, তাদের জন্য এই গ্রন্থ নিঃসন্দেহে এক অমূল্য সহায়ক।
