Writer : Nikhad Bangali (Sampad Barik)
- Shipping Time : 10 Days
- Policy : Return/Cancellation?
You can return physically damaged products or wrong items delivered within 24 hours with photo/video proof.
Contact Customer Support for return initiation and receive return authorization via email. Securely package for return.
Refunds for eligible returns are processed within 7-10 business days via Bank Transfer.
Order cancellation allowed within 24 hours of placing it. Standard policy not applicable for undamaged/wrong product cases. Detailed info. - Genre : Essays>Archaeological & Historical Facts
- Publication Year : 2026
- ISBN No : NA
- Binding : Paste Board (Hard) with Gel Jacket
- Pages : 250
- Weight : 499 gms
- Height x Width x Depth : 8.5x5.5x0.5 Inch
If so, it will be notified
About the Book
আপনারা যখন এই বই পড়তে শুরু করবেন, তখন দেখবেন এই বই একেবারেই ফাজিলের মহাভারতের মতন নয়। যদিও মহাভারত সম্পর্কিতই তবুও ফাজিলের মহাভারতের হাস্যরস এতে নেই। কিন্তু এই বইটা লেখা দরকার হয়ে পড়েছিল। কারণ, মহাভারতের যুদ্ধ নিয়ে বহু বহু লেখা হলেও তার যুদ্ধের মধ্যে একটি মূখ্য অঙ্গ নিয়ে লেখালেখি কমই হয়েছে। এবং সেই মূখ্য অঙ্গ হল — ব্যূহ।
ব্যূহ বলতেই সকলের মনে প্রথমেই আসে চক্রব্যূহ। বিখ্যাত এই চক্রব্যূহ দায়ী অভিমন্যুর মৃত্যুর জন্য। তাই নিয়ে লেখালেখি, যাত্রা, নাটক, রিসার্চ পেপার কম নেই। ব্যূহ নিয়ে কিন্তু তার দশভাগের একভাগও লেখালেখি হয়নি। তাই সেই চাহিদা থেকেই এই লেখার অবতারণা বলতে পারেন।
তবে মহাভারতে যখন লেখা নেই, তখন ব্যূহের ব্যাপারে এই বই লিখলাম কোথা থেকে। তারজন্য সাহায্য নিতে হয়েছে তিনটি বইয়ের। তাদের তথ্যঋণ স্বীকার না করে এই বইয়ের এক লাইনও জনসমক্ষের সামনে আনা উচিত নয় বলে আমি মনে করি।
তিনটি বইয়ের মধ্যে দুটি বই নীতিপ্রকাশিকা নিয়ে। এই নীতিপ্রকাশিকা রচনা করেছিলেন ব্যাসদেবের শিষ্য বৈশম্পায়ন ঋষি, যিনি জনমেজয়কে মহাভারত শুনিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নীতিপ্রকাশিকা হল সংস্কৃতে একটি ছোটো কলেবরের পুস্তক। সেটাকে নিয়ে পড়াশোনা করে ইংলিশে নিজের মতামত দিয়ে ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে একটি পুস্তক রচনা করেন বিখ্যাত জার্মান সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিত গুস্তাভ সলোমন অল্পার্ট। একই নীতিপ্রকাশিকা নিয়ে নতুন করে এবং ব্যূহের বহু ছবিসহ আরেকটি পুস্তক রচনা করেন আহমেদাবাদ সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের সংস্কৃত প্রফেসর বিখ্যাত ডক্টর ঊর্মি সমীর শাহ। তৃতীয় রিসার্চ পেপার ইন্টারনেটেই পাই। Nitiprakisika - Critical analysis by S. Anusha নামক রিসার্চ বই।
এই তিনটি বইয়ে ব্যূহ রচনা এবং নিয়মাবলির অনেককিছুই জানানো আছে। তার সাথে প্রচুর রাজনীতি, রণনীতি ও অস্ত্রের ব্যাপারে ব্যাখা আছে, কিন্তু সেসব এই বইয়ের পরিধির মধ্যে আসে না। তার সাথে ইন্টারনেট ও মহাভারত রিসার্চের কিছু পেপার তো আছেই। কিন্তু তারপরেও কিছু জায়গায় এসে আমার খটকা শুরু হয়। প্রথম খটকা হল, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ব্যূহগুলোর রচনাতে বলা হয়ে সেগুলো পত্তির সমষ্টি আকারে হত। কিন্তু সেভাবে এগোলে দেখা যাচ্ছে যে একটি পত্তির হাতি সামনের পত্তির পদাতিক সেনার ঠিক পিছনেই চলেছে। তারা আবার সামনের অশ্বারোহী, রথ আর হাতির গতির সাথে তাল মিলিয়ে চলছে। এইখানে খটকা এটাই লাগে যে যদি একটু তালের এদিক- ওদিক হয়েছে তাহলে হাতির পায়ের তলায় পদাতিক সেনাদের চাপা পড়ার বিস্তর সম্ভাবনা।
তাই আমি নিজে একটু স্বাধীনতা নিয়ে প্রত্যেকটা ব্যূহের দুইরকম রূপ দিলাম। একটা রৈখিক, সেখানে কয়েকটা পত্তি মিলে একটি ব্যূহ সৃষ্টি করছে। ছোটো ব্যূহ তাই সামলানো অসুবিধে নয়। এবং এই রৈখিক আকারের ব্যূহের সাথে পণ্ডিতদের ব্যূহ মিলে যায়। অন্যদিকে মহাভারতে যেরকম আমরা পড়েছি, বিশাল বিশাল ব্যূহ, সেগুলোর পক্ষ নিতে আমি একই ব্যূহের বিশাল রূপ এঁকেছি, যেখানে পত্তির নিয়ন ব্যূহের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। অর্থাৎ সর্বাগ্রে হাতি, তারপর রথ, তৃতীয়তে অশ্বারোহী, এবং সবশেষে পদাতিক।
দ্বিতীয় স্বাধীনতা আমি নিয়েছি চক্রব্যূহের আকার আঁকার সময়। আপনারা প্রায় সকলেই কখনো না কখনো ইন্টারনেট বা বইয়ে চক্রব্যূহের একটি ছবি দেখেছেন। অনেকটা জিলিপির মতন দেখতে ভুলভুলাইয়া। কিন্তু সেটাকেও দ্রোণের দৃষ্টিকোণ দিয়ে ভেবে দেখলাম, যে চক্রব্যূহ যদি সেইরকমই শুধু প্যাঁচালো হত তাহলে তো ভীম বা মহাপরাক্রমশালী কোনো পাণ্ডব যোদ্ধা সরাসরি ঢুকতে পারত। বাধাটা পেত কোথায়? তাই শুধু ভীমের কথা ভেবে চক্রব্যূহ এক নতুন রূপ দিলাম এবং তার পিছনে যুক্তিও দিলাম।
তৃতীয় স্বাধীনতা নিয়েছি কিছু ব্যূহের আঁকার সময়। অসুর ব্যূহ, দেব ব্যূহ, নহিয ব্যূহ ইত্যাদির আকার লুপ্ত। তারা কেমন ছিল জানা যায় না, শুধু নামগুলো রয়ে গেছে। তাই সেগুলোকেও যুক্তি মেনে যথাযথ রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ~~ নিখাদ বাঙালি
