Writer : Akshay Kumar Dutta
- Shipping Time : 10 Days
- Policy : Return/Cancellation?
You can return physically damaged products or wrong items delivered within 24 hours with photo/video proof.
Contact Customer Support for return initiation and receive return authorization via email. Securely package for return.
Refunds for eligible returns are processed within 7-10 business days via Bank Transfer.
Order cancellation allowed within 24 hours of placing it. Standard policy not applicable for undamaged/wrong product cases. Detailed info. - Genre : Spirituality>Miscellaneous Religious Books
- Publication Year : 2025
- ISBN No : 978-81-84370-33-1
- Binding : Paste Board (Hard)
- Pages : 650
- Weight : 1200 gms
- Height x Width x Depth : 8.5x5.5x1.5 Inch
If so, it will be notified
About the Book
ভারতবর্ষীয় উপাসক-সম্প্রদায় বাংলা নবজাগরণের যুগে রচিত ধর্ম, সমাজ, দর্শন ও লোকঐতিহ্যভিত্তিক অন্যতম শ্রেষ্ঠ গবেষণাগ্রন্থ। এর রচয়িতা অক্ষয় কুমার দত্ত (১৮২০–১৮৮৬) ছিলেন তত্ত্ববোধিনী সভা ও ব্রাহ্ম সমাজের সঙ্গে যুক্ত এক বিশিষ্ট যুক্তিবাদী মনীষী, যিনি বাংলা ভাষায় আধুনিক বৈজ্ঞানিক ও সমাজবিশ্লেষণধর্মী গদ্যের পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত। এই গ্রন্থে তিনি ভারতবর্ষের বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসক-সম্প্রদায়ের ইতিহাস, মতবাদ, আচার, দর্শন, গোপন সাধনপদ্ধতি, সামাজিক অবস্থান ও সাংস্কৃতিক প্রভাবকে বিস্ময়কর তথ্যসমৃদ্ধ ও বিশ্লেষণধর্মী ভঙ্গিতে উপস্থাপন করেছেন।
গ্রন্থটি মূলত দুই ভাগ বা দুই খণ্ডে বিভক্ত। প্রথম ভাগে শৈব, শাক্ত, বৈষ্ণব, তান্ত্রিক, নাথ, বাউল, সহজিয়া প্রভৃতি সম্প্রদায়ের উৎপত্তি ও বিকাশ বিশ্লেষণ করা হয়েছে; দ্বিতীয় ভাগে কবীরপন্থী, দাদূপন্থী, রামস্নেহী, সন্ন্যাসী, বৈরাগী এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক ও লোকভিত্তিক ধর্মীয় সম্প্রদায় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা রয়েছে। লেখক কেবল সম্প্রদায়গুলোর ধর্মীয় বিশ্বাসের বিবরণ দেননি; বরং তাদের সামাজিক ভূমিকা, আচরণগত বৈশিষ্ট্য, লোকসংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক-ঐতিহাসিক পটভূমিও ব্যাখ্যা করেছেন।
অক্ষয় কুমার দত্ত এই গ্রন্থ রচনার জন্য সংস্কৃত পুরাণ, তন্ত্রগ্রন্থ, বৈষ্ণব পদাবলি, সাধুসাহিত্য, লোকমুখে প্রচলিত উপাখ্যান, আখড়া-সংস্কৃতি এবং প্রত্যক্ষ অনুসন্ধানের সহায়তা নিয়েছিলেন। উনিশ শতকের বাংলায় এই ধরনের পদ্ধতিগত গবেষণা ছিল অত্যন্ত বিরল। তিনি ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোকে অলৌকিকতার আবরণে না দেখে নৃতাত্ত্বিক ও সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিতে বিচার করেছেন। সেই অর্থে এই গ্রন্থকে বাংলা ভাষায় ধর্মসমাজতত্ত্বের প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল বলা হয়। তাঁর আলোচনায় দেখা যায়, কীভাবে ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলো সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা, জাতিভেদ, লিঙ্গসম্পর্ক, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও আঞ্চলিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল।
বইটির ভাষা উনিশ শতকের উচ্চাঙ্গ বাংলা গদ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এতে সংস্কৃতঘেঁষা শব্দভাণ্ডার, দীর্ঘ বাক্য ও পাণ্ডিত্যপূর্ণ বিশ্লেষণ থাকলেও লেখকের যুক্তির স্বচ্ছতা এবং তথ্যবহুল উপস্থাপনা পাঠককে আকৃষ্ট করে। বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, অক্ষয় কুমার দত্ত ধর্মীয় বিষয়ে অন্ধ ভক্তির পরিবর্তে সমালোচনামূলক বিশ্লেষণের পথ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি কোথাও কোথাও কুসংস্কার, গোঁড়ামি ও ধর্মব্যবসার সমালোচনা করেছেন, আবার কিছু সম্প্রদায়ের মানবিক ও সাম্যবাদী দিকের প্রশংসাও করেছেন। ফলে বইটি শুধু ধর্মীয় ইতিহাস নয়, উনিশ শতকের বাঙালি বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণেরও একটি আয়না।
ঐতিহাসিকভাবে গ্রন্থটির গুরুত্ব অসামান্য। বাংলা ভাষায় ভারতীয় ধর্মীয় সম্প্রদায়সমূহ নিয়ে এত বিস্তৃত ও দলিলসমৃদ্ধ গবেষণা তার আগে খুব কমই দেখা গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ধর্মতত্ত্ব, লোকসংস্কৃতি ও বাংলা নবজাগরণ নিয়ে যাঁরা গবেষণা করেছেন, তাঁদের অনেকেই এই গ্রন্থকে প্রাথমিক সূত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এতে ভারতীয় উপমহাদেশের লোকধর্ম, আঞ্চলিক উপাসনা, তান্ত্রিক প্রথা এবং ভক্তি-আন্দোলনের বিবর্তন সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য সংরক্ষিত হয়েছে। গ্রন্থটির প্রকাশ-ইতিহাসও গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন সময়ে এর একাধিক সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম ভাগের একটি সংস্করণ ১৮৮৮ সালে প্রকাশিত হয় এবং দ্বিতীয় ভাগের সংস্করণ ১৮৮২ ও পরে ১৯০৭ সালে পুনর্মুদ্রিত হয়। পরবর্তীকালে বসুমতী সাহিত্য মন্দির ও সংস্কৃত প্রেস ডিপোজিটরি থেকে সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
বর্তমান সময়ে ভারতবর্ষীয় উপাসক-সম্প্রদায় গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, লোকসংস্কৃতি অনুরাগী এবং বাংলা নবজাগরণ নিয়ে আগ্রহী পাঠকদের জন্য একটি অপরিহার্য গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত। ধর্মীয় সম্প্রদায়কে ইতিহাস, সমাজ ও সংস্কৃতির প্রেক্ষাপটে বিচার করার যে আধুনিক মননশীল পদ্ধতি অক্ষয় কুমার দত্ত গ্রহণ করেছিলেন, তা বাংলা গদ্যসাহিত্য ও জ্ঞানচর্চার ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অবদান হিসেবে স্বীকৃত।
