Welcome to Dorlink
Selected Books
×
Mohenjodaror Sesh Munushera | Last Peoples of Mohenjodaro Bengali Non Fiction

Edited By : NA

Compiled By : NA

Translated By : NA

Publishers : Basak Book Store

  • Shipping Time : 10 Days
  • Policy : Return/Cancellation?

    You can return physically damaged products or wrong items delivered within 24 hours with photo/video proof.
    Contact Customer Support for return initiation and receive return authorization via email. Securely package for return.

    Refunds for eligible returns are processed within 7-10 business days via Bank Transfer.
    Order cancellation allowed within 24 hours of placing it. Standard policy not applicable for undamaged/wrong product cases. Detailed info.

  • Genre : Literature>Diary / Interview / Non-fiction
  • Publication Year : 2026
  • ISBN No : 978-93-47374-11-1
  • Binding : Paste Board (Hard) with Gel Jacket
  • Pages : 600
  • Weight : 750 gms
  • Height x Width x Depth : 9.5x6.5x1.5 Inch
MRP : ₹750.00/- Discount : 17% Off
Your Price : ₹619.00/-
MRP is subject to change as per edition/impression by the publisher.
If so, it will be notified

About the Book

লারকানার সেই মাটি—যে ভূমি মানবসভ্যতার প্রাচীনতম নগর-ঐতিহ্যের অন্যতম স্মারক মহেঞ্জোদারোর জন্য বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছে—ইতিহাসের আরেকটি গভীর ও বেদনাবিধুর অধ্যায়েরও নীরব সাক্ষী। এই ভূখণ্ডেই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের গণহত্যার নীল নকশা প্রণীত হয়েছিল বলে ইতিহাসের বহু গবেষক ও পর্যবেক্ষক মনে করেন। অথচ সেই অধ্যায় আজও যথাযথ আলোচনার আলোকবৃত্তে আসেনি; তাকে আড়াল করে রাখা হয়েছে বিস্মৃতি ও নীরবতার আবরণে। সেই কারণেই বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের একাংশের পাকিস্তানমুখী আবেগ ও রাজনৈতিক রোমান্টিসিজম প্রত্যক্ষ করলে গভীর অনুশোচনা ও উদ্বেগ জন্ম নেয়। 

এই উপন্যাসে সেই মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত সংঘাতকে একটি বিশেষ চরিত্রের মাধ্যমে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। সমকালীন বাস্তবতার নানা জটিল প্রশ্ন, সামাজিক টানাপোড়েন এবং আদর্শগত সংঘর্ষকে কাহিনির ভেতরে প্রতীক ও রূপকের সাহায্যে উপস্থাপন করা হয়েছে।

উপন্যাসের বুননে বিভিন্ন ধাঁধা, সংকেত, প্রতীক এবং বহুস্তরীয় ইঙ্গিত সংযোজিত হয়েছে। এগুলি কেবল কাহিনিকে রহস্যময় করে তোলার জন্য নয়; বরং পাঠককে ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং পরিচয়ের গভীরে প্রবেশ করে নিজস্ব অনুসন্ধানের পথ খুঁজে নিতে উদ্বুদ্ধ করার জন্য। "লাভ জিহাদ" আমাদেরও অস্ত্র হতে পারে। না হলে "রক্তবীজের" বিনাশ সম্ভব নয়।

আমার এই উপন্যাস কেবল প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতার প্রত্নতাত্ত্বিক বা ঐতিহাসিক পুনর্নির্মাণ নয়; এটি একই সঙ্গে অতীত ও বর্তমানের মধ্যে এক সেতুবন্ধন। ইতিহাসের দীর্ঘ ছায়া কীভাবে সমকালীন বাস্তবতার ওপর পতিত হয়, সেই অনুসন্ধানই এর মূল সুর। ফলে এই আখ্যানের বিস্তার পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশ থেকে ভারতের বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড, সেখান থেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া পেরিয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে। 

উপন্যাসের কেন্দ্রে রয়েছে এক ভয়াবহ প্রশ্ন—সিন্ধু সভ্যতার সেই প্রাচীন উত্তরাধিকার, সেই আদিম মানবগোষ্ঠীর জিনগত ও সাংস্কৃতিক স্মৃতি, আজ কি পরিকল্পিতভাবে মুছে ফেলা হচ্ছে? ইতিহাসে যেমন বহু জাতি, ভাষা ও সংস্কৃতিকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা হয়েছে, তেমনি বর্তমান সময়েও কি কোনো অদৃশ্য শক্তি সেই একই প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে চলেছে? 

এই প্রশ্নেরই প্রতীক হয়ে ওঠে বাংলাদেশের একটি পাঁচতারা হোটেলে সংঘটিত এক রহস্যময় হত্যাকাণ্ড। নিহত আদিবাসী কন্যা ‘লালতি’র মৃত্যু প্রথমে একটি সাধারণ অপরাধ বলেই মনে হয়। কিন্তু তদন্ত যত এগোয়, ততই উন্মোচিত হতে থাকে এক বিস্তৃত ও ভয়ংকর জালের অস্তিত্ব, যার শিকড় পৌঁছে যায় বহু দূরের সিন্ধু প্রদেশে। মানবপাচার, ক্ষমতার অদৃশ্য করিডর, আন্তর্জাতিক স্বার্থগোষ্ঠী এবং তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’-এর অন্ধকার ষড়যন্ত্র একে একে প্রকাশিত হতে থাকে। 

এই অমানবিক চক্রান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এমন কিছু মানুষ, যারা হয়তো বহন করে চলেছে হাজার হাজার বছরের পুরোনো এক উত্তরাধিকার—সিন্ধু সভ্যতার শেষ জীবন্ত স্মৃতি। সভ্যতার অগ্রগতি ও বিশ্বায়নের উজ্জ্বল আলোর আড়ালে তাদের অস্তিত্ব আজ ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে। তারা হারিয়ে যাচ্ছে, বিলীন হয়ে যাচ্ছে ইতিহাসের প্রান্তরেখায়। এক অর্থে তারাই ‘সিন্ধুর শেষ মানুষ’। 

এই উপন্যাস সেই হারিয়ে যেতে বসা মানুষদের গল্প; তাদের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামের গল্প; ইতিহাস, রাজনীতি, প্রত্নতত্ত্ব ও মানবিক ট্র্যাজেডির এক বহুমাত্রিক কাহিনি। শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই—ভবিষ্যতের পৃথিবীতে কি এই মানুষদের কোনো স্থান থাকবে? নাকি তারা ইতিহাসের আরেকটি নিঃশব্দ বিলুপ্তির শিকার হবে? আর সিন্ধু নদ, যে হাজার বছরের সভ্যতার সাক্ষী হয়ে আজও বহমান, সে কি তার অতীতের গৌরব ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে স্বমহিমায় প্রবাহিত হতে পারবে? 

এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই অনুসন্ধান করে ‘মহেঞ্জোদারোর শেষ মানুষেরা’—এক ইতিহাস, এক রহস্য, এক সতর্কবার্তা।  

 সিন্ধুলিপির পাঠোদ্ধার আজও সম্ভব হয়নি। তাই এই সভ্যতা সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া ধৃষ্টতা। ইতিহাসের যে অন্ধকার প্রকোষ্ঠে আলো পড়েনি, সেখানে অনুমানের প্রদীপ জ্বালানো ছাড়া উপায় কী? বালুচিস্তানের বোলান নদীর তীরে গড়ে ওঠা সিন্ধুর আদি রূপ থেকে শুরু করে এই মহানগরীর অন্তিম পর্যায় পর্যন্ত— আমি এই উপন্যাসকে দুটি বৃহৎ খণ্ডে বিভক্ত করেছি। যতটুকু ঐতিহাসিক, প্রত্নতাত্ত্বিক ও নৃতাত্ত্বিক উপাদান আমাদের হাতে আছে, তার ভিত্তিতেই সেই সময়ের সিন্ধু সভ্যতার সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জীবনকে পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করেছি। কল্পনার রঙে নয়, তথ্যের কঙ্কালে রক্ত-মাংস জুড়ে দিতে চেয়েছি।

এর পাশাপাশি রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত আরও তিনটি খণ্ডে এই আখ্যানকে বিস্তৃত করেছি। এক খণ্ডে রয়েছে মহেঞ্জোদারো আবিষ্কারের রোমাঞ্চ, আর তার সমান্তরালে বয়ে চলেছে রাখালদাসের ব্যক্তিজীবনের উত্থান-পতন, অপমান-গৌরবের রক্তাক্ত ইতিহাস। অন্য দুই খণ্ডে ধরা পড়েছে বর্তমান সময়ের দুই ভিন্ন প্রজন্মের মানুষের মহেঞ্জোদারোর প্রতি দুর্নিবার আসক্তি, তাদের অনুসন্ধান, তাদের যন্ত্রণা। 

কালকে খণ্ড খণ্ড করে দেখালেও, এই সমস্ত পর্বের ভিতর দিয়ে বয়ে গেছে এক চোরা স্রোত— এক অমোঘ, অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ। সে স্রোত হল মহেঞ্জোদারোর ভূমিপুত্র ও কন্যাদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার এক ভয়াবহ, সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। যা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। আজ থেকে পাঁচ হাজার বছর আগে কথিত বৈদেশিক আক্রমণের রক্তস্নাত অধ্যায় থেকে শুরু করে একবিংশ শতাব্দীর মানব-পাচার, অঙ্গ-ব্যবসা, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন পর্যন্ত— একই ষড়যন্ত্রের ভিন্ন ভিন্ন মুখোশ। 

মহেঞ্জোদারো কেবল ইট-পাথরের ধ্বংসস্তূপ নয়। সে সিন্ধু সভ্যতার ধারক ও বাহক, এক সমগ্র জাতিসত্তার শিকড়। সেই শিকড়কে উপড়ে ফেলার, সেই স্মৃতিকে মুছে দেওয়ার, সেই সন্তানদের শেষ করে দেওয়ার চক্রান্ত আজও চলমান। প্রশ্ন একটাই— এই ভয়াবহ চক্রান্তকে অতিক্রম করে সিন্ধুর সন্তানেরা কি নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে পারবেন? না কি কালের নির্মম স্রোতে তাঁরাও ভেসে যাবেন বিস্মৃতির অতলে, যেমন ভেসে গেছে মহেঞ্জোদারোর নাগরিকেরা? 

সেদিন, আজ থেকে পাঁচ হাজার বছর আগে, যখন মহেঞ্জোদারোর নিশ্চিত পতন আসন্ন, তখন কয়েকজন মানুষ এই পবিত্র ভূমি ত্যাগ করে বেরিয়ে পড়েছিলেন অজানার উদ্দেশে। কেউ আশ্রয় নিয়েছিলেন বর্তমান ভারতের গভীর অরণ্যে, কেউ পাড়ি দিয়েছিলেন পশ্চিমের দিগন্তে। তাঁরা কারা ছিলেন? তাঁদের রক্ত কি আজও বইছে কোনো জনগোষ্ঠীর ধমনীতে? প্রাচীন সিন্ধুলিপির সঙ্গে ভারতের এক বিশেষ আদিবাসী সম্প্রদায়ের লিপির এই বিস্ময়কর সাদৃশ্যের উৎস কী? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খোঁজার এক বিনীত প্রয়াস এই উপন্যাস। 

যা কিছু তথ্য-প্রমাণ আমার হাতে ছিল, তাই দিয়েই আমি এই আখ্যান রচনা করেছি। কিন্তু উপন্যাসের গুণগত মান নির্ধারণের ভার, এর মূল্যায়নের অধিকার আমি পাঠকের হাতেই সমর্পণ করলাম। ইতিহাসের বিচারক তো কাল, আর সাহিত্যের বিচারক পাঠক। মহেঞ্জোদারো—একটি মৃত নগরীর নাম নয়, বরং সময়ের বুকে অমর হয়ে থাকা এক সভ্যতার দীর্ঘ প্রতিধ্বনি। এই উপন্যাসে সেই প্রতিধ্বনির পথ অনুসরণ করে অতীত ও বর্তমানকে একটি অদৃশ্য সূত্রে গেঁথে দেখানোর প্রয়াস করা হয়েছে। পাঁচ হাজার বছর পূর্বের সিন্ধু সভ্যতার জীবন, সংস্কৃতি, বিশ্বাস, ভাষা ও মানুষের স্বপ্ন যেমন এখানে স্থান পেয়েছে, তেমনি সমান গুরুত্ব নিয়ে উঠে এসেছে বর্তমান সময়ের সামাজিক, রাজনৈতিক ও মানবিক বাস্তবতা। 

উপন্যাসটির কাহিনি মহেঞ্জোদারোকে কেন্দ্র করে বিস্তৃত হয়েছে সিন্ধুর প্রান্তর থেকে সিরিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূমি, আফগানিস্তানের দুর্গম উপত্যকা, ভারতের জনজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল এবং বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জনপদ পর্যন্ত। ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব, নৃতত্ত্ব, জিনতত্ত্ব ও সমকালীন সমাজবাস্তবতা এখানে পরস্পরের সঙ্গে মিশে গড়ে তুলেছে এক বহুমাত্রিক আখ্যান। 

এই উপন্যাসে বর্তমান সিন্ধু প্রদেশে বসবাসকারী হিন্দু সম্প্রদায়ের অস্তিত্বসংকট, তাদের উপর চলমান নানা ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চাপ, জবরদস্তিমূলক ধর্মান্তর, নারী ও শিশু পাচার, মানবপাচার এবং অঙ্গপাচারের মতো অন্ধকার বাস্তবতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। সভ্যতার জন্মভূমি হিসেবে পরিচিত একটি অঞ্চলের অন্তর্লুকায়িত বেদনা, ভয় এবং সংগ্রাম এই আখ্যানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। 

একই সঙ্গে উপন্যাসটি অনুসন্ধান করেছে একটি আকর্ষণীয় ঐতিহাসিক ও ভাষাতাত্ত্বিক প্রশ্নকে। ভারতের একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী বিশ্বাস করে যে সিন্ধু লিপির সঙ্গে তাদের ভাষা ও প্রতীকচিহ্নের এক বিস্ময়কর সাদৃশ্য বিদ্যমান। সেই দাবির পেছনের ইতিহাস, যুক্তি, গবেষণা এবং সম্ভাব্য সম্পর্কের নানা দিক এই কাহিনির মাধ্যমে অনুসন্ধান করা হয়েছে। লিপি, প্রতীক, লোকস্মৃতি এবং উত্তরাধিকারের সূত্র ধরে অতীতের সঙ্গে বর্তমানের সংলাপ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা রয়েছে এর অন্তরে। 

উপন্যাসজুড়ে বিচরণ করেছে অসংখ্য চরিত্র—কেউ প্রাচীন মহেঞ্জোদারোর অধিবাসী, কেউ বা বর্তমান বিশ্বের গবেষক, সাংবাদিক, প্রত্নতত্ত্ববিদ, মানবাধিকারকর্মী কিংবা সাধারণ মানুষ। তাদের জীবন, প্রেম, সংগ্রাম, বিশ্বাস, হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন এবং ইতিহাসের সঙ্গে তাদের গভীর সম্পর্ক এই কাহিনিকে করেছে আরও বিস্তৃত, আরও জীবন্ত। 

এটি কেবল একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস নয়; এটি স্মৃতি, উত্তরাধিকার, পরিচয়, মানবসভ্যতার ধারাবাহিকতা এবং মানুষের অস্তিত্বসংগ্রামের এক দীর্ঘ যাত্রার কাহিনি। মহেঞ্জোদারোর ভাঙা ইটের ফাঁক দিয়ে এখানে কথা বলে অতীত, আর সেই কণ্ঠস্বর প্রতিধ্বনিত হয় বর্তমানের অস্থির পৃথিবীতেও। 

সিন্ধু বয়ে যায়। তার জল কখনো রক্ত হয়, কখনো অশ্রু হয়। কিন্তু সে থামে না। আমরাও থামব না।