Writer : Srila Krishnadasa Kaviraja Goswami
Edited By : Dilip Mukhopadhyay (Pauranikattam)
Compiled By : NA
Translated By : NA
Publishers : Akshay Library
- Shipping Time : 10 Days
- Policy : Return/Cancellation?
You can return physically damaged products or wrong items delivered within 24 hours with photo/video proof.
Contact Customer Support for return initiation and receive return authorization via email. Securely package for return.
Refunds for eligible returns are processed within 7-10 business days via Bank Transfer.
Order cancellation allowed within 24 hours of placing it. Standard policy not applicable for undamaged/wrong product cases. Detailed info. - Genre : Spirituality>Biography of Spiritual Persons
- Publication Year : 2026
- ISBN No : NA
- Binding : Paste Board (Hard)
- Pages : 700
- Weight : 1200 gms
- Height x Width x Depth : 10.5x9.5x2.5 Inch
If so, it will be notified
About the Book
চৈতন্যচরিতামৃত একটি বিশিষ্ট জীবনীমূলক ধর্মগ্রন্থ, যেখানে ষোড়শ শতকের মহান ভারতীয় সাধক ও ধর্মপ্রচারক শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জীবন, সাধনা, দর্শন ও বাণীর বিস্তৃত পরিচয় পাওয়া যায়। গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের অন্যতম প্রধান প্রবর্তক ও প্রচারক শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জীবন ও শিক্ষাকে কেন্দ্র করেই এই অনন্য গ্রন্থের রচনা। তাঁর বিশিষ্ট শিষ্য কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী ষোড়শ শতকের শেষভাগে বাংলা ভাষায় এই গ্রন্থ রচনা করেন।
গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের ধারায় চৈতন্যচরিতামৃত এক বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। এই পরম্পরার ভক্তদের কাছে এটি শুধু একটি জীবনচরিত নয়, এক পবিত্র ধর্মগ্রন্থ। গ্রন্থের পাতায় পাতায় চৈতন্য মহাপ্রভুর জীবনযাত্রা, তাঁর সাধনা ও ধর্মবোধ, শিষ্য ও ভক্তদের সঙ্গে তাঁর অন্তরঙ্গ সম্পর্ক, তাঁদের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন এবং তাঁর গভীর আধ্যাত্মিক দর্শনের পরিচয় ফুটে উঠেছে।
গ্রন্থটি তিনটি প্রধান পর্বে বিভক্ত — আদিলীলা, মধ্যলীলা ও অন্ত্যলীলা।
আদিলীলা-য় বর্ণিত হয়েছে চৈতন্য মহাপ্রভুর শৈশব, কৈশোর, প্রারম্ভিক জীবন এবং তাঁর ধর্মভাবনার বিকাশ। তাঁর আধ্যাত্মিক সাধনার সূচনা এবং ভক্তিধর্মের যে আদর্শ পরবর্তীকালে তাঁর জীবনের মূল সুর হয়ে উঠেছিল, তারও পরিচয় এই পর্বে পাওয়া যায়।
মধ্যলীলা-য় স্থান পেয়েছে তাঁর জীবনের মধ্যপর্বের বিস্তৃত কাহিনি। তাঁর তীর্থভ্রমণ, ধর্মপ্রচার, ভক্তদের সঙ্গে নানা আধ্যাত্মিক আলোচনা এবং তাঁর ভক্তি-দর্শনের বিস্তারের কথা এই অংশে বিশেষভাবে বর্ণিত হয়েছে। তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রভাব কীভাবে ক্রমশ বিস্তৃত হয়ে এক বৃহত্তর ধর্মীয় আন্দোলনের রূপ নিয়েছিল, তারও একটি সুস্পষ্ট চিত্র এখানে ফুটে ওঠে।
অন্ত্যলীলা-য় রয়েছে তাঁর জীবনের শেষ পর্বের কাহিনি। পুরীতে তাঁর অবস্থান, ভক্তদের সঙ্গে তাঁর গভীর আধ্যাত্মিক সম্পর্ক, তাঁর সাধনা ও ভাবাবেশ এবং শেষপর্যন্ত এই পার্থিব জগত থেকে তাঁর অন্তর্ধানের বিবরণ এই অংশে স্থান পেয়েছে।
সাহিত্যিক উৎকর্ষ, আধ্যাত্মিক গভীরতা এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব — এই তিনের অনন্য সমন্বয়ে চৈতন্যচরিতামৃত ভারতীয় ভক্তিসাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ। গ্রন্থটি বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং আজও গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের ভক্ত, গবেষক ও অনুরাগীদের মধ্যে সমানভাবে পাঠিত ও অধ্যয়ন করা হয়। এর আধ্যাত্মিক বাণী ও ভক্তির আদর্শ ভারতবর্ষের সীমানা অতিক্রম করে বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষকেও অনুপ্রাণিত করে চলেছে। হিন্দু ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক সাহিত্যের পরিসরে চৈতন্যচরিতামৃত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। বিশেষত গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের অনুসারীদের কাছে এর স্থান অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। তাঁদের কাছে এটি কেবল একজন মহাপুরুষের জীবনকথা নয়—ভক্তি, প্রেম, আত্মসমর্পণ এবং ঈশ্বরসাধনার এক গভীর আধ্যাত্মিক পথনির্দেশ। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর শিক্ষার কেন্দ্রে রয়েছে শ্রীকৃষ্ণের প্রতি একনিষ্ঠ প্রেম ও ভক্তি। ঈশ্বরকে লাভ করার পথ হিসেবে তিনি যে প্রেমভক্তির আদর্শ প্রচার করেছিলেন, চৈতন্যচরিতামৃতের পাতায় তারই নানা দিক উন্মোচিত হয়েছে। বিশেষত হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্রের নামসংকীর্তনকে আত্মশুদ্ধি ও ঈশ্বরসাধনার এক সহজ ও শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে এই গ্রন্থের পরিসর কেবল ভক্তিরসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আত্মার প্রকৃতি, জীবাত্মা ও পরমাত্মার সম্পর্ক, ঈশ্বর ও জীবের পারস্পরিক সম্বন্ধ, ভক্তির স্বরূপ এবং আধ্যাত্মিক সিদ্ধিলাভের পথ—হিন্দু দর্শনের এমন বহু গভীর বিষয় নিয়েও গ্রন্থে আলোচনা রয়েছে। ফলে ভক্তের কাছে এটি যেমন সাধনার সহায়, তেমনই গবেষক ও দর্শনপিপাসু পাঠকের কাছেও এটি চিন্তা ও অনুসন্ধানের এক সমৃদ্ধ ক্ষেত্র। গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের অনুসারীরা চৈতন্যচরিতামৃতকে তাঁদের আধ্যাত্মিক সাধনা ও ধর্মচর্চার একটি প্রধান ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই গ্রন্থ পাঠ, শ্রবণ ও অধ্যয়নের মধ্য দিয়ে চৈতন্য মহাপ্রভুর প্রেমভক্তির আদর্শ অনুসৃত হয়ে এসেছে। একইসঙ্গে হিন্দুধর্মের ইতিহাস, দর্শন ও ভক্তি আন্দোলনের বিকাশ নিয়ে যাঁরা গবেষণা করেন, তাঁদের কাছেও এই গ্রন্থের গুরুত্ব অপরিসীম।
সবশেষে বলা যায়, চৈতন্যচরিতামৃত শুধু একটি ধর্মীয় জীবনচরিত নয়; এটি প্রেম, ভক্তি, আত্মসমর্পণ ও আত্মোপলব্ধির এক গভীর আধ্যাত্মিক দলিল। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জীবন ও বাণীর মধ্য দিয়ে যে প্রেমময় ভক্তির আদর্শ প্রকাশ পেয়েছে, তা আজও অসংখ্য মানুষকে অন্তরের শুদ্ধি, ঈশ্বরসন্ধান এবং আত্মোপলব্ধির পথে আহ্বান জানিয়ে চলেছে।
কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী ছিলেন ষোড়শ শতকের এক বিশিষ্ট সাধক, পণ্ডিত ও বৈষ্ণব সাহিত্যিক। তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি চৈতন্যচরিতামৃত, যেখানে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জীবন, সাধনা ও ধর্মদর্শন এক গভীর ভক্তিরস ও সাহিত্যিক সৌকর্যে উপস্থাপিত হয়েছে।
বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের কাটোয়ার নিকটবর্তী ঝামটপুর গ্রামে এক ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম। পরবর্তীকালে তিনি বৃন্দাবনের বৈষ্ণব সাধনার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হন এবং চৈতন্য মহাপ্রভুর আদর্শ ও ভক্তিবাদের প্রচারে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিবেদন করেন। কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী ছিলেন রঘুনাথ দাস গোস্বামীর শিষ্য। রঘুনাথ দাস ছিলেন বৃন্দাবনের প্রসিদ্ধ ষড়্গোস্বামী-এর অন্যতম এবং চৈতন্য মহাপ্রভুর প্রধান শিষ্যদের মধ্যে অন্যতম। গুরু ও মহাপ্রভুর শিক্ষা কৃষ্ণদাস কবিরাজের জীবন ও চিন্তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি তাঁদের প্রদর্শিত ভক্তির পথ অধ্যয়ন, সাধনা এবং প্রচারে ব্যয় করেন। তিনি ছিলেন এক অসামান্য প্রতিভাবান লেখক। চৈতন্যচরিতামৃত ছাড়াও তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে গোবিন্দলীলামৃত, যেখানে বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণের দিব্য লীলার মনোমুগ্ধকর বর্ণনা পাওয়া যায়, এবং গৌরাঙ্গলীলামৃত, যেখানে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জীবন ও লীলার কথা বর্ণিত হয়েছে।
গৌড়ীয় বৈষ্ণবসমাজে কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী আজও এক মহাপুরুষ, সাধক ও আধ্যাত্মিক আচার্য হিসেবে গভীর শ্রদ্ধার আসনে অধিষ্ঠিত। চৈতন্য মহাপ্রভুর ভাবধারা ও ভক্তিতত্ত্বকে যে কয়েকজন মনীষী তাঁদের রচনার মাধ্যমে সুদূর ভবিষ্যতের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন, কৃষ্ণদাস কবিরাজ তাঁদের অন্যতম। তাঁর চৈতন্যচরিতামৃত শুধু গৌড়ীয় বৈষ্ণব সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শনগুলির একটি নয়, ভারতীয় আধ্যাত্মিক সাহিত্যেরও এক অনন্য সম্পদ।
