Writer : Satinath Bhanduri
- Shipping Time : 10 Days
- Policy : Return/Cancellation?
You can return physically damaged products or wrong items delivered within 24 hours with photo/video proof.
Contact Customer Support for return initiation and receive return authorization via email. Securely package for return.
Refunds for eligible returns are processed within 7-10 business days via Bank Transfer.
Order cancellation allowed within 24 hours of placing it. Standard policy not applicable for undamaged/wrong product cases. Detailed info. - Genre : Literature>Novels & Novellas
- Publication Year : 2022
- ISBN No : 978-81-8437-404-9
- Binding : Paste Board (Hard) with Gel Jacket
- Pages : 277
- Weight : 499 gms
- Height x Width x Depth : 8.5x5.7x01 Inch
If so, it will be notified
About the Book
ঢোঁড়াই চরিত মানস হল সতীনাথ ভাদুড়ী-র রচিত বাংলা সাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যতিক্রমধর্মী উপন্যাস, যেখানে এক সাধারণ মানুষের জীবনকে মহাকাব্যিক আকারে উপস্থাপন করা হয়েছে। নাম থেকেই বোঝা যায় যে এটি রামচরিত মানসের রামচন্দ্রের সমান্তরালে, অনুকরণে গঠিত, তবে এখানে দেবতা বা বীরপুরুষ নয়, বরং সমাজের নিম্নবর্গের একজন সাধারণ মানুষ ঢোঁড়াই-ই কাহিনির কেন্দ্রবিন্দু।
উপন্যাসের পটভূমি বিহারের পূর্ণিয়া অঞ্চলের গ্রামীণ সমাজ, যেখানে দরিদ্র তাতমা সম্প্রদায়ের মধ্যে জন্ম নেওয়া ঢোঁড়াই শৈশব থেকেই দারিদ্র্য, বঞ্চনা এবং সংগ্রামের মধ্যে বড় হয়ে ওঠে। তার জীবন কোনো সরলরৈখিক পথে এগোয় না; বরং জীবিকার তাগিদে সে কখনো শ্রমিক, কখনো পথ নির্মাণের কাজে যুক্ত হয় এবং সমাজের নানা স্তরের মানুষের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। ব্যক্তিগত জীবনে প্রেম, বিবাহ এবং বিচ্ছেদের অভিজ্ঞতা যেমন তার জীবনে প্রভাব ফেলে, তেমনি বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনও তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করে।
উপন্যাসটি মূলত ব্রিটিশ শাসনের শেষ পর্যায়, বিশেষ করে ভারত ছাড়ো আন্দোলন-এর সময়কালকে ধারণ করে, যখন গ্রামীণ সমাজেও রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ ঘটতে শুরু করে। গান্ধীবাদ, সমাজতন্ত্র ও অন্যান্য মতাদর্শ সাধারণ মানুষের জীবনে প্রবেশ করে এবং তাদের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আনে। ঢোঁড়াইয়ের জীবনকাহিনি এই বৃহত্তর পরিবর্তনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত হয়ে ওঠে, ফলে ব্যক্তিগত জীবন থেকে গল্পটি ধীরে ধীরে সামাজিক ও সামষ্টিক বাস্তবতার দিকে বিস্তৃত হয়। এই উপন্যাসে প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রা, জাতিভেদ প্রথা, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং শোষণের নির্মম চিত্র অত্যন্ত বাস্তবতার সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে, যা একে কেবল একটি গল্প নয়, বরং একটি সমাজদলিল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।
লেখককে খুঁজে পাওয়া যায় না বর্ণনায়, এমন নিরাসক্তভাবে লেখা খুব কঠিন কাজ। ঘটনা ঘটছে, চরিত্রগুলো বলে যাচ্ছে তাদের চিন্তা বা কর্ম- লেখকের কোনো কৃতিত্ব যেন নেই এই বর্ণনায়। আর এই কৌশল আয়ত্ত্ব করতে পারেন যিনি, লেখক হিসেবে তিনি প্রথম শ্রেণীর নি:সন্দেহে। সতীনাথ ভাদুড়ির ঢোঁড়াইচরিত মানস পড়ে মুগ্ধ হয়ে যেতে হয়।
রচনাশৈলীর দিক থেকে উপন্যাসটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এটি কাণ্ড বা অধ্যায়ে বিভক্ত, যা মহাকাব্যিক কাঠামোর স্মারক। ভাষা সহজ, গ্রামীণ ও লোকজ, যা চরিত্র ও পরিবেশকে জীবন্ত করে তোলে। ঢোঁড়াই চরিত্রটির মধ্য দিয়ে লেখক দেখিয়েছেন একজন সাধারণ মানুষের আত্মপরিচয় খোঁজার সংগ্রাম এবং সমাজের সঙ্গে তার ক্রমাগত সংঘাত। একই সঙ্গে উপন্যাসে একটি আদর্শ সমাজ বা ইউটোপিয়ার ধারণাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানো হয়েছে, যেখানে তথাকথিত ‘রামরাজ্য’ বা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বাস্তবে কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ পেয়েছে।
সার্বিকভাবে, ঢোঁড়াই চরিত মানস বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য স্থান অধিকার করে আছে, কারণ এটি নায়কত্বের ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে—এখানে নায়ক কোনো অসাধারণ ব্যক্তি নয়, বরং সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত মানুষ। এই উপন্যাস প্রমাণ করে যে সাধারণ মানুষের জীবনও সমানভাবে মহৎ, জটিল এবং সাহিত্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
