Writer : Dinesh Chandra Sen
Edited By : Dr. Manas Majumder
Compiled By : Dinesh Chandra Sen
Translated By : NA
Publishers : Karuna Prakashani
- Shipping Time : 10 Days
- Policy : Return/Cancellation?
You can return physically damaged products or wrong items delivered within 24 hours with photo/video proof.
Contact Customer Support for return initiation and receive return authorization via email. Securely package for return.
Refunds for eligible returns are processed within 7-10 business days via Bank Transfer.
Order cancellation allowed within 24 hours of placing it. Standard policy not applicable for undamaged/wrong product cases. Detailed info. - Genre : Art & Culture>Folklore & Folk-verses
- Publication Year : 2021
- ISBN No : 978-81-8437-395-0
- Binding : Paste Board (Hard) with Gel Jacket
- Pages : 480
- Weight : 600 gms
- Height x Width x Depth : 8.5x5.8x1.3 Inch
If so, it will be notified
About the Book
মৈমনসিংহ গীতিকা : বাংলা লোকসাহিত্যের অমূল্য ঐতিহ্য
বাংলা লোকসাহিত্যের ইতিহাসে “মৈমনসিংহ গীতিকা” এক অনন্য ও কালজয়ী সৃষ্টি। এটি মূলত বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে প্রচলিত লোকগাথা, পালাগান ও আখ্যানভিত্তিক কাব্যের সংকলন। গ্রামীণ মানুষের মুখে মুখে বহু শতাব্দী ধরে প্রচলিত এই কাহিনিগুলো বাংলার সাধারণ মানুষের জীবন, প্রেম, বিরহ, সংগ্রাম, সামাজিক সম্পর্ক, ধর্মীয় বিশ্বাস ও মানবিক অনুভূতির এক জীবন্ত দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়। বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে এই পালাগানগুলো সংগ্রহ ও গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়, সম্পাদনা করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
এই গীতিকার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর স্বাভাবিকতা ও লোকজ প্রাণশক্তি। এখানে কৃত্রিম অলংকারের চেয়ে মানবজীবনের সরল অনুভূতি বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। গ্রামের সাধারণ মানুষ যেমনভাবে জীবনকে অনুভব করেছে, তেমনি সহজ ভাষায় তা প্রকাশিত হয়েছে। প্রেম এখানে শুধু রোমান্টিক নয়; বরং আত্মত্যাগ, সামাজিক বাধা, বেদনা এবং সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত। ফলে গীতিকাগুলোতে একদিকে যেমন আবেগ আছে, অন্যদিকে রয়েছে বাস্তব জীবনের কঠিন সত্য।
“মহুয়া”, “মালুয়া”, “দেওয়ানা মদিনা”, “চন্দ্রাবতী”, “কমলা”, “কাজলরেখা” প্রভৃতি পালাগান এই সংকলনের উল্লেখযোগ্য অংশ। প্রতিটি কাহিনির কেন্দ্রে রয়েছে শক্তিশালী মানবিক চরিত্র। বিশেষ করে নারীদের চরিত্রচিত্রণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তারা শুধু প্রেমিকা নয়; সাহসী, আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন এবং প্রতিবাদী হিসেবেও উপস্থাপিত হয়েছে। “মহুয়া” চরিত্রে যেমন প্রেমের জন্য আত্মত্যাগ দেখা যায়, তেমনি “চন্দ্রাবতী”-তে নারীর বেদনা ও আত্মসম্মানের গভীর প্রকাশ লক্ষ করা যায়।
এই গীতিকাগুলো বাংলা সমাজের সামাজিক ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। তৎকালীন গ্রামীণ জীবনের রীতি-নীতি, জমিদারি প্রথা, ধর্মীয় সহাবস্থান, পেশাভিত্তিক জীবনধারা এবং লোকবিশ্বাসের চিত্র এতে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনও এই পালাগানগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ফলে এটি শুধু সাহিত্য নয়, সমাজ-সংস্কৃতিরও মূল্যবান দলিল।
ভাষাগত দিক থেকেও এই গীতিকার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। আঞ্চলিক শব্দ, লোকভাষা, ছন্দ এবং সুরের ব্যবহার একে সাধারণ কাব্য থেকে আলাদা করেছে। এই গীতিগুলো মূলত গাওয়ার জন্য রচিত হওয়ায় এতে সুরধর্মিতা অত্যন্ত প্রবল। লোকগানের সহজ ছন্দ ও পুনরাবৃত্তিমূলক বাক্যগঠন শ্রোতাদের আবেগকে গভীরভাবে স্পর্শ করে।
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির আন্তর্জাতিক পরিচিতি গড়ে তুলতেও এই গীতিকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিদেশি গবেষক ও সাহিত্যসমালোচকেরা বাংলার লোকঐতিহ্যের গভীরতা উপলব্ধি করতে সক্ষম হন এই সংকলনের মাধ্যমে। পরবর্তীকালে বাংলা লোকসাহিত্য গবেষণার পথও অনেকাংশে উন্মুক্ত হয়।
সবশেষে বলা যায়, “মৈমনসিংহ গীতিকা” শুধু কয়েকটি লোককাহিনির সংকলন নয়; এটি বাংলার মাটি, মানুষের জীবনবোধ ও হৃদয়ের আবেগের এক চিরন্তন প্রতিচ্ছবি। বাংলা লোকসাহিত্যের ইতিহাসে এর গুরুত্ব অপরিসীম এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এটি এক মূল্যবান সাংস্কৃতিক সম্পদ।
