Writer : Debabrata Biswas
- Shipping Time : 10 Days
- Policy : Return/Cancellation?
You can return physically damaged products or wrong items delivered within 24 hours with photo/video proof.
Contact Customer Support for return initiation and receive return authorization via email. Securely package for return.
Refunds for eligible returns are processed within 7-10 business days via Bank Transfer.
Order cancellation allowed within 24 hours of placing it. Standard policy not applicable for undamaged/wrong product cases. Detailed info. - Genre : Literature>Autobiography & Biography
- Publication Year : 2023
- ISBN No : 978-81-8437-048-5
- Binding : Paste Board (Hard)
- Pages : 207
- Weight : 305 gms
- Height x Width x Depth : 8.5x5.7x0.5 Inch
If so, it will be notified
About the Book
দেবব্রত বিশ্বাস ওরফে জর্জ বিশ্বাস, বাংলা রবীন্দ্রসংগীতের ইতিহাসে ইনি এমনই এক অনন্য গায়ক, যাঁর কণ্ঠে রবি ঠাকুরের গান এক নতুন মাত্রা পেয়েছিল। কিন্তু প্রচলিত রবীন্দ্রসংগীতের গঠিত নিয়মের বিরুদ্ধে তাঁর সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি বহুবার বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ‘ব্রাত্যজনের রুদ্ধসংগীত’ তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ, যেখানে তিনি তাঁর জীবন, সংগীতের দর্শন, তৎকালীন সমাজ ও রবীন্দ্রসংগীতের প্রচলিত রীতির বিরুদ্ধে তাঁর সংগ্রামের কথা অকপটভাবে লিখেছেন। এটি কেবল একটি আত্মজীবনী নয়, বরং তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির এক প্রতিবাদপত্রও বটে।
বাংলা রবীন্দ্রসংগীতের ইতিহাসে ইনি এমনই এক অনন্য গায়ক, যাঁর কণ্ঠে রবি ঠাকুরের গান এক নতুন মাত্রা পেয়েছিল। জর্জ বিশ্বাসের কণ্ঠের গভীরতা, ব্যঞ্জনা এবং গানের ব্যাখ্যার নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে অনন্য করে তুলেছিল। কিন্তু প্রচলিত রবীন্দ্রসংগীতের গঠিত নিয়মের বিরুদ্ধে তাঁর সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি বহুবার বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
এই বইটি মূলত দেবব্রত বিশ্বাসের জীবন ও সংগীতের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির দলিল। তিনি কীভাবে রবীন্দ্রসংগীতের প্রচলিত গণ্ডির বাইরে এসে নতুন ব্যাখ্যা দিলেন, কীভাবে তাঁর কণ্ঠস্বরে বিদ্রোহী সুর যুক্ত হলো, এবং কেন তাঁকে বহিষ্কৃত হতে হলো—এসবের বিশদ বিবরণ রয়েছে এখানে।
বইটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে:
১. শৈশব ও শিক্ষা – দেবব্রত বিশ্বাসের পারিবারিক পটভূমি, ১৯১১ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন এবং পরে ব্রিটিশ শাসিত অবিভক্ত বাংলার ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জে বসবাস করতে আসেন। ছাত্রজীবন ও সংগীতের প্রতি তাঁর প্রথম টান কীভাবে তৈরি হলো। রবীন্দ্রসংগীতের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি – তিনি কীভাবে রবীন্দ্রসংগীতকে প্রচলিত গৎবাঁধা পরিবেশনা থেকে আলাদা করে নিজের মতো করে গাইতে শুরু করলেন।
২. সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর রক্ষণশীলতা – রবীন্দ্রভারতী ও বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য এবং কীভাবে একসময় তাঁকে নিষিদ্ধ করা হলো।
৩, সঙ্গীতের স্বাধীনতা বনাম রীতিবদ্ধতা – তিনি কেন মনে করতেন যে, রবীন্দ্রসংগীত কেবলমাত্র নির্দিষ্ট একরকমভাবে গাওয়ার বিষয় নয়, বরং গায়কের ব্যক্তিত্ব ও সৃজনশীলতার প্রকাশের সুযোগ থাকা উচিত।
৪. সমাজ, রাজনীতি ও বিদ্রোহের সুর – দেবব্রত বিশ্বাসের চিন্তাভাবনায় কেমনভাবে সময়ের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন প্রভাব ফেলেছিল।
বিশ্বাসের সঙ্গীত ছিল আবেগের গভীর প্রকাশে অনন্য, যার সঙ্গে যুক্ত ছিল রবীন্দ্রনাথের গানের সূক্ষ্ম নাটকীয় উপাদানের অনুসন্ধান। ১৯৪০-এর দশকের গোড়ার দিকে প্রকাশিত তাঁর প্রাথমিক গ্রামোফোন রেকর্ডগুলিতে রবীন্দ্রসঙ্গীতের সুরকে তিনি এক আন্তরিক, প্রাণভরা কণ্ঠে পরিবেশন করেছিলেন, যেখানে প্রচলিত লিখিত ও অলিখিত নিয়ম-কানুনের প্রতি কঠোর আনুগত্য লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু ১৯৬০-এর দশকের শুরুতে তিনি সেই বাঁধাধরা নিয়ম ভাঙতে শুরু করেন—যা অধিকাংশের মতে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তাঁর সঙ্গীতজীবনের স্বর্ণযুগ হিসেবে বিবেচিত।
এই সময়কার তাঁর গায়কিতে কণ্ঠের অসাধারণ শক্তি, স্বরের মডুলেশন এবং প্রবল আবেগঘন প্রকাশ লক্ষ করা যায়, যা তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে তো বটেই, এমনকি তাঁর নিজের পূর্ববর্তী গায়কির মধ্যেও বিরল ছিল। তাঁর কণ্ঠস্বর সহজেই তিনটি অক্টেভ জুড়ে বিচরণ করত এবং বিভিন্ন লয় ও তালের বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ ছিল। বজ্রগম্ভীর ও গভীর ধ্বনি থেকে শুরু করে কোমল ও মধুর সুর—সব ধরনের আবেগ তিনি অনন্য দক্ষতায় প্রকাশ করতেন।
নিজস্ব অনুভূতি ও জীবনদর্শনে কিছুটা সাহসী এবং প্রবল ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হওয়ায়, তিনি রবীন্দ্রনাথের অতি পরিচিত গানের কথাতেও নতুন অর্থ ও সতেজতা এনে দিতেন। তাঁর হৃদয়স্পর্শী পরিবেশনাগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য —
- আকাশ ভরা সূর্য তারা
- পুরানো সেই দিনের কথা
- এ মণিহার আমায় নাহি সাজে
- ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো প্রভু
- যে রাতে মোর দুয়ারগুলি
- তোমার কাছে এ বর মাগি
- চোখের জলের লাগলো জোয়ার
- স্বপ্নে আমার মনে হলো…. প্রভৃতি।
বিশ্বাসই একমাত্র শিল্পী যিনি রবীন্দ্রসঙ্গীত সংস্কৃত, ইংরেজি, জার্মান, ফরাসি এবং রুশ ভাষায় পরিবেশন করেছিলেন।
রবীন্দ্রসঙ্গীতের পাশাপাশি, তিনি গণসঙ্গীত পরিবেশন করেও বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত দলীয় সমাবেশ, সভা ও প্লেনারি অধিবেশনে তাঁর গম্ভীর ব্যারিটোন কণ্ঠে গণসঙ্গীত শ্রোতাদের মুগ্ধ করত। তিনি Indian People's Theatre Association (IPTA)-এর স্বর্ণযুগের অন্যতম বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ছিলেন। সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি হিসেবে তিনি ১৯৫০-এর দশকের গোড়ার দিকে ভারতের অন্যান্য বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে দু’বার চীন সফর করেন। সেই অভিজ্ঞতা তিনি ‘অন্তরঙ্গ চিন্’ বা চায়না অফ মাই হার্ট নামের একটি সহজ-সরল অথচ আন্তরিক গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেন। সমাজ উৎসব এবং Shillong Brahmo Conference-এ তাঁর ব্রাহ্মসঙ্গীত পরিবেশনা শ্রোতাদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখত। তাঁর লেখা ব্রাত্যজনের রুদ্ধসংগীত গ্রন্থের রয়্যালটি Sadharan Brahmo Samaj-কে প্রদান করা হয়েছে।
দেবব্রত বিশ্বাসের লেখার শৈলী যেমন তীক্ষ্ণ, তেমনি তির্যক। তিনি কোনো কিছু সাজিয়ে-গুছিয়ে লেখার চেয়ে নির্মোহভাবে তাঁর অভিজ্ঞতা ও ক্ষোভ ব্যক্ত করেছেন। তাঁর ভাষা কখনও তীব্র ব্যঙ্গাত্মক, কখনও বা করুণ আবেগময়। তিনি অকপটে বলেছেন কীভাবে তৎকালীন সংগীত মহল তাঁকে বহিষ্কৃত করেছিল, কীভাবে গুরুশিষ্য পরম্পরার নামে একরকম একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, এবং কীভাবে গায়ক হিসেবে নিজের স্বাধীনতা হারানোর আশঙ্কা তাঁকে বিদ্রোহী করে তুলেছিল।
আজও তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীতের সর্বাধিক জনপ্রিয় শিল্পীদের অন্যতম হিসেবে বিবেচিত। কখনও তিনি ছিলেন শাস্ত্রীয় নিয়মনিষ্ঠতার প্রতীক, আবার কখনও প্রচলিত প্রতিষ্ঠান, সংগঠিত গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক একনায়কত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের এক শক্তিশালী প্রতীক। মৃত্যুর ৪৩ বছর পরেও তাঁর রেকর্ডগুলির জনপ্রিয়তা ও চাহিদা অটুট রয়েছে।
আজকের দিনে বইটির প্রাসঙ্গিকতা ও গুরুত্ব কোথায় ?
‘ব্রাত্যজনের রুদ্ধসংগীত’ শুধুমাত্র একজন শিল্পীর আত্মজীবনী নয়; এটি মূলত শিল্পের স্বাধীনতা, রীতিবদ্ধতার বিরুদ্ধে সৃজনশীলতার জয়গান এবং বিদ্রোহী চেতনার এক অমূল্য দলিল।
