Writer : Bibhutibhusan Bandyopadhyay
- Shipping Time : 10 Days
- Policy : Return/Cancellation?
You can return physically damaged products or wrong items delivered within 24 hours with photo/video proof.
Contact Customer Support for return initiation and receive return authorization via email. Securely package for return.
Refunds for eligible returns are processed within 7-10 business days via Bank Transfer.
Order cancellation allowed within 24 hours of placing it. Standard policy not applicable for undamaged/wrong product cases. Detailed info. - Genre : Literature>Classics (Novel & Stories)
- Publication Year : 2023
- ISBN No : 978-93-93521-27-9
- Binding : Normal Jacket with Pasteboard
- Pages : 240
- Weight : 300 gms
- Height x Width x Depth : 8.5x5.4x0.5 Inch
If so, it will be notified
About the Book
১৯৫০-৫১ সালের রবীন্দ্র পুরষ্কার প্রাপ্ত রচনা।
ইছামতী একটি ছোট নদী। অন্তত যশোর জেলার মধ্য দিয়ে এর যে অংশ প্রবাহিত, সেটুকু। দক্ষিণে ইছামতী কুমির-কামট-হাঙ্গর-সংকুল বিরাট নোনা গাঙে পরিণত হয়ে কোথায় কোন সুন্দরবনে সুঁদ্রি-গরান গাছের জঙ্গলের আড়ালে বঙ্গোপসাগরে মিশে গিয়েচে, সে খবর যশোর জেলার গ্রাম্য অঞ্চলের কোনো লোকই রাখে না। পথের পাঁচালী আর অপরাজিত ছাড়া বিভূতিভূষণ আরও যে তিনটি উপন্যাস লেখার পরিকল্পনা তার সাহিত্যিক জীবনের শুরুতেই নিয়েছিলেন তার একটি হচ্ছে ইছামতী। ১৯২৮ সালে লেখা তার ডায়েরীতেও এই উপন্যাস লেখার পরিকল্পনার কথা পাওয়া যায়। তবে উপন্যাসটি লিখতে লিখতে চলে গেছে বহু বছর। ১৯৫০ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাস, বিভূতিভূষণ এর লেখা শেষ সম্পূর্ণ উপন্যাস।
নীলচাষ ও নীলকুঠির পটভূমিকে কেন্দ্র করে লেখা মায়ামাখা জীবনের গল্প কেবল বিভূতিবাবুর লেখাতেই পাওয়া সম্ভব! তখনও নীলচাষ বাংলায় পূর্ণ বিক্রমে চলছে। নীলচাষ ও নীলকুঠি, নীলবিদ্রোহ এই উপন্যাসের একটি প্রধান অংশ ঘিরে আছে। তবু সেটাই সবটা নয়, সেকালের কুলীন ব্রাহ্মণ সমাজ, কূপমুন্ডকতায় আচ্ছন্ন অলস গ্রামবাসী, ডাকাত, কবিরাজ, বিভূতিভূষণের প্রিয় বিষয় আধ্যাত্মিকতা, ইছামতী আর প্রকৃতির বর্ণনা কি নেই এই বইয়ে। গ্রামের চন্ডীমন্ডপের অলস আড্ডা যেমন আছে, আছে নালু পালের শূণ্য থেকে শুরু করে নিজের চেষ্টায় সফল ব্যবসায়ী হবার গল্পও। এমনকি অত্যাচারী দেওয়ান রাজারাম রায় কিংবা হলা ডাকাতকেও তিনি চিত্রিত করেছেন পরম মমতায়। কোন মানুষের সবকিছুই তো পুরোপুরি খারাপ হয় না, তাই তিনি ভালো মন্দের বিভেদ টানেন নি, উদাসীনভাবে বর্ণনা করে গেছেন মাত্র। গয়া মেম আর প্রসন্ন চক্রবর্তীর মধ্যেকার ভালোবাসাও তিনি বর্ণনা করেছেন এমনভাবে যে পাঠক তাদের ঘৃণা না করে বরং ভালোই বাসবে, একই কথা চলে নিস্তারিনী চরিত্র সম্পর্কেও। আর ভবানী বাড়ুজ্যে এবং রামকানাই কবিরাজ এমন মানুষও হয়তো ছিলেন সে সময় যারা শুধু বিষয় সম্পত্তির পেছনেই ছুটতেন না, ছিলেন নির্লোভ, সৎ, সুন্দর মনের মানুষ। ভবানী বাড়ুজ্যের চরিত্রটি সৃষ্টি করতে গিয়ে হয়তো বিভূতিভূষণ অজান্তে নিজের কথাই লিখে ফেলেছেন। তার উপনিষদ এর তত্ত্ব আলোচনা, প্রকৃতির মধ্যে, মানুষের মধ্যে, শিশুর মধ্যে ঈশ্বরকে খুঁজে বেড়ানো তো বিভূতিভূষণের নিজের কথাই। নীলকর সাহেব, জমিদার, রাজারাম, ভবানী বাড়ুয্যে, তুলু, বাণী, গয়া মেম—এইসব চরিত্রেরা ইতিহাসের মুখোশ পরে আসে, কিন্তু তাদের রক্তপ্রবাহে মিশে থাকে নৈতিক টানাপোড়েনের এক চিরন্তন সুর।
তিলু, বিলু, নীলু তিন বোন, বিশেষ করে তিলু তো সেই চিরন্তনী নারী যাকে বিভূতিভূষণের লেখায় বারবার খুঁজে পাওয়া যায়। কেবল রুপ নয়, তার আসল পরিচয় তার মনের সৌন্দর্যে, বুদ্ধি ও শক্তিতে। সেসময়ের ঐতিহাসিক অনেক ঘটনাও অল্প করে হলেও এসেছে এই লেখায়। প্রথম মোটর গাড়ি, লর্ড মেয়োর হত্যা, তীতুমীরের বিদ্রোহ, রেল লাইন স্থাপন, তীর্থযাত্রীদের নিয়ে জাহাজডুবি এসব সমকালীন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নানাভাবে বিভূতিভূষণ নিয়ে এসেছেন এই উপন্যাসে। খল চরিত্রগুলোও এখানে আমাদের মতো সাধারণ মানুষই। শিপটন সাহেবও তাই লেখকের ভালোবাসা, মমতা পুরোটাই পেয়েছেন, তার মৃত্যুর বর্ণনাটি তো অসাধারণ। উপন্যাসটির কোন নির্দিষ্ট সমাপ্তি নেই। ভবানী বাড়ুজ্যে, তিলু, রামকানাই কবিরাজের জীবনের বাকি দিনগুলো কেমন কাটলো জানা হল না, খোকা কি সত্যিই বড় মানুষ হতে পেরেছিল কি না তাই বা কে জানে। এমন অনেক প্রশ্ন রেখে একটি যুগের কিছু সাধারণ মানুষের সাধারণ জীবনের সাধারণ কথাগুলো নিয়েই এই অসাধারণ উপন্যাস ইছামতী।
‘ইছামতী’-তে আমরা দেখতে পাই কিভাবে ঔপনিবেশিকতা কেবল রাজনৈতিক নয়, নৈতিক এক অন্ধত্বে পরিণত হয়েছিল। ঔপনিবেশিক শাসনকালীন যশোর-নদীয়ার এক বিস্মৃত ভূগোলের মধ্যে লেখক খুঁজে পান সভ্যতার সেই বৃহৎ প্রশ্ন: মানুষ কি সত্যিই স্বাধীন হতে পারে, যখন তার শ্রম, তার জমি, তার নদী, এমনকি তার শরীরও অন্যের মালিকানায় বন্দি? বিভূতিভূষণ এই প্রশ্নের উত্তর দেন সরাসরি নয়, বরং নদীর জলের মতো, ধীরে, ছায়া ও আলোর খেলার মধ্যে। ইংরেজ নীলকররা এই উপন্যাসে এক অর্থে প্রেতাত্মা—তাদের উপস্থিতি সর্বত্র, কিন্তু তারা যেন ছায়ামাত্র , চেতনাহীন যন্ত্র। অথচ বিভূতিভূষণ তাঁদের একতরফাভাবে দানব হিসেবে গঠিত করেন না; তিনি দেখান কিভাবে দেশীয় সমাজও এই দাসত্বে একাধারে অংশগ্রহণ করেছিল। রাজারাম, সেই কুলীন ব্রাহ্মণ, যিনি ইংরেজদের দোসর হয়ে ওঠেন, আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রতিটি ঔপনিবেশিক শাসনের ভেতরেই কিছু দেশীয় ‘কার্টজ’ লুকিয়ে থাকে। বিভূতিভূষণ এখানে নৈতিক জটিলতা তৈরি করেন—শোষক ও শোষিতের সীমারেখা কুয়াশার মতো অস্পষ্ট হয়ে যায়। এই অস্পষ্টতাই তাঁর সাহিত্যকে ইতিহাসের চেয়ে গভীর করে তোলে।
'ইছামতী' আসলে এক বিশেষ ধরনের উপন্যাস: এটি ইতিহাস নয়, কিন্তু ইতিহাসের প্রেতচিহ্নে গঠিত; এটি ধর্ম নয়, কিন্তু ধর্মের পরমাত্মার সঙ্গে সংলাপে বিধৃত; এটি প্রকৃতির বর্ণনা নয়, কিন্তু প্রকৃতির আত্মা। সেই আত্মার সঙ্গে মানুষের যে সম্বন্ধ—তা-ই এই উপন্যাসের আখ্যানশক্তি।
