Writer : Adwaita Mallabarman
- Shipping Time : 10 Days
- Policy : Return/Cancellation?
You can return physically damaged products or wrong items delivered within 24 hours with photo/video proof.
Contact Customer Support for return initiation and receive return authorization via email. Securely package for return.
Refunds for eligible returns are processed within 7-10 business days via Bank Transfer.
Order cancellation allowed within 24 hours of placing it. Standard policy not applicable for undamaged/wrong product cases. Detailed info. - Genre : Literature>Classics (Novel & Stories)
- Publication Year : 2025
- ISBN No : 978-81-84372-79-3
- Binding : Paste Board (Hard)
- Pages : 232
- Weight : 350 gms
- Height x Width x Depth : 8.5x5.7x0.5 Inch
If so, it will be notified
About the Book
অদ্বৈত মল্লবর্মণের এই সাহিত্যকর্ম, বাংলা সাহিত্যের এক অবিস্মরণীয় উপন্যাস, যা কেবল কাহিনির দিক থেকে নয়, সমাজবাস্তবতা ও জীবনদর্শনের দিক থেকেও এক অনন্য সৃষ্টি। এই উপন্যাসটি মূলত তিতাস নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা জেলে সম্প্রদায়ের জীবনসংগ্রামের এক হৃদয়বিদারক দলিল। এটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সামাজিক উপন্যাস হিসেবে স্বীকৃত, যা কেবল সাহিত্যিক সৌন্দর্য নয়, বরং গভীর মানবিক বোধ ও বাস্তবতার এক অনবদ্য চিত্র এঁকেছে।
উপন্যাসটির মূল প্রেক্ষাপট তিতাস নদী ও তার আশপাশে বসবাসকারী মল্লা সম্প্রদায়ের জেলেদের জীবন। এরা মূলত নদীর ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তাদের অস্তিত্ব সংকটে পড়ে। নদী যেমন তাদের জীবন-জীবিকার একমাত্র উৎস, তেমনি প্রকৃতির নির্মমতা ও সামাজিক বৈষম্য তাদের দুর্ভোগ বাড়িয়ে তোলে।
তিতাস - এই নদীকে উপজীব্য করে যে সমগ্র মালো তথা জেলেদের জীবন যে একই সূত্রে গাঁথা তা উপন্যাসের শুরুতেই লেখক স্পষ্ট করেছেন। শুধু তাই নয় এই নদীকে কেন্দ্র করেই যে তাদের আচার - বিচার, সংস্কৃতি। একটা উজানের ঢেউ যেমন বহু পুরোনো নদীর চড়েও ভাঙন ধরায় তেমনই মালোদের জীবনে তাদের প্রাণের তিতাস একদিন শুকিয়ে যায়, যতদিন জল থাকে তাদের অধিকার জন্মায়, জলার তোলার মাটি যেন তাদের দূরে ঠেলে দেয় ঢেউয়ের মতোই আছড়ে পড়ে তাদের জীবন - জীবিকায়। বাংলাভাষায় লেখা নদীকেন্দ্রিক সাহিত্যের প্রসঙ্গ উঠলে, "তিতাস একটি নদীর নাম" উপন্যাসের কথা সবার আগে মনে পড়ে। তিতাস নদীর চেয়ে খ্যাতনামা নদী বাংলাদেশে আরো অনেক আছে। তবু এই আপাত-অখ্যাত নদীটিকে, অদ্বৈত মল্লবর্মণ চিরস্মরণীয় করে রেখেছেন আপামর বাঙালি পাঠকের হৃদয়ে। প্রধানত দুটো কারণে —
এক। প্রান্তিক হতদরিদ্র মৎস্যজীবি সম্প্রদায়ের মধ্যে পড়াশুনার রেওয়াজ, সেই আমলে প্রায় ছিলোনা বললেই চলে। এমন অবস্থায়, নিরক্ষর মালোজাতিদের ঘরের একজন মানুষ, দৈবক্রমে লেখাপড়া শিখে, নিজের জাতির মানুষদের সুখ দুঃখ আনন্দ বেদনার বিবরণ এরকম দরদ দিয়ে লিখবেন, এটা একটা অভাবনীয় ঘটনা। সারা পৃথিবীতে এই বিরল ঘটনা ক'টা ঘটেছে তা আঙুল গুনে বলে দেওয়া যায়।
দুই। সম্পূর্ণরূপে হারিয়ে যাওয়া একটা সময়কাল, সেই হারিয়ে যাওয়া সময়ের মানুষজন, তাদের সমাজ, সামাজিক রীতিনীতি, তাদের জন্ম-মৃত্যু-বিবাহ, বেঁচে থাকার অপরিসীম সংগ্রাম, তাদের অসাম্প্রদায়িক চিন্তাভাবনা, একদরিয়া দুঃখের মাঝে ভাসমান একঘটি সুখ, জীবনের উত্থান-পতন, তাদের প্রেম-ভালোবাসা-বিরহযন্ত্রণা— এই সমস্তকিছু জানতে পেরে পাঠক হিসেবে আমার উপলব্ধি হয়েছে যে, এইসব বৃত্তান্ত যদি লিখে না-রাখা হতো, একটা অপূর্ব ঐশ্বর্য্য তলিয়ে যেতো কালের গর্ভে। এমনও ছিলো আকাশ বাতাস জল মাটি নৌকা বৃক্ষ নদী চোখের জল? আমরা কোনোদিন জানতেই পারতাম না! এখানেই তো সাহিত্যের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।
গল্পের মুখ্য চরিত্র অনেক গুলি, উপন্যাসের প্লট অনুযায়ী সেগুলি আলাদা কিন্তু সমগ্র ঘটনাটাই মালো জনজাতিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। মানুষের জীবন যেমন সময়ের মতো সরলরৈখিক কিন্তু একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানুষের জীবন কখনই শুরু বা শেষ হয় না সেরকমই উপন্যাসের মূল চরিত্র যেমন কিশোর, সুবল, বাসন্তী, অনন্ত, অনন্তের মা এদের পরস্পরের জীবনের ঘটনা প্রবাহ গুলোকে লেখক যে নিপূণ সম্পৃক্ততার মাধ্যমে আলাদা আলাদা মূল্যায়ন করেছেন সেটিকে কোনো মাপকাঠির মধ্যে ফেলার ক্ষমতা আমাদের নেই। কাহিনির কেন্দ্রীয় চরিত্র কিশোরী বসন্তী এবং তরুণ কিশোর। বসন্তী ও কিশোরের প্রেমের মধ্য দিয়ে এই উপন্যাসের মানবিক ও ট্র্যাজিক দিকটি ফুটে ওঠে। কিশোরের বিয়ের দিনই তাকে তুলে নিয়ে যায় ডাকাতেরা, আর বসন্তীর জীবনে নেমে আসে চরম দুর্দশা। সে সমাজে অবহেলিত, নিপীড়িত, কিন্তু সংগ্রামী। তার জীবন এক প্রতীক, যা মল্লা সম্প্রদায়ের সমষ্টিগত দুর্ভোগ ও লড়াইকে প্রতিফলিত করে।
প্রথম থেকেই উপন্যাসের একটি করুন সুর চোখে পরে, মালোদের জীবন যাত্রার আঁধারের দিক টা লেখক স্বমহিমায় তুলে ধরে। কিন্তু সব কিছুর মধ্যে লেখক নদী প্রকৃতির যে স্নিগ্ধ রূপটি লেখার মাধ্যমে বর্ণনা করেন যা ক্রমেই পড়তে পড়তে নিজের চোখের সামনে ভেসে ওঠে বলেই মনে হয়। অনেক দুঃখের মাঝেও তিতাস যে মালোদের জীবনের একটা নিখাদ আনন্দ, তিতাসের জল শুকিয়ে যাওয়া মালোদের যে ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন তারই প্রমাণ। প্রত্যেকটি চরিত্রই একটি না একটি করুণ পরিণতির সম্মুখীন হয়, কারুর মনোবাসনা অপূর্ণ থাকে কিংবা কারুর জীবনটাই অসম্পূর্ণ।
পরিশেষে বলতে হয়, এই বইটি নিছক একটি উপন্যাস নয়, এটি এক হারিয়ে যাওয়া জনগোষ্ঠীর আত্মচিত্র। এটি বাংলা সাহিত্যে এক অসামান্য সংযোজন, যা কেবল পাঠকের মনকে আন্দোলিত করে না, বরং সমাজের প্রতি নতুন করে চিন্তা করতেও বাধ্য করে। এই উপন্যাস আমাদের শিখিয়ে দেয়, সমাজের প্রতিটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীরও নিজস্ব কাহিনি আছে, তাদের জীবনও গুরুত্বপূর্ণ, এবং তাদেরও স্বপ্ন দেখার অধিকার আছে। এটি শুধু সাহিত্যিকদের জন্য নয়, সমাজবিজ্ঞানী, ঐতিহাসিক, এমনকি সাধারণ পাঠকের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক দলিল।
